মেথি শাক: মেথি শাকের পুষ্টিগুণ/মেথি শাকের উপকারিতা

0
291
মেথি শাকের উপকারিতা

মেথি শাকের গুরুত্ব অপরিসীম৷ এই শাক তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে৷ হতাশা কাটাতে ও ডায়বেটিসের জন্য মেথি শাক খুব উপকারি৷ এছাড়া, যৌনক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এই শাক৷ মেথি শাক আপনার শরীরকে ভেতর থেকে শুধু সুস্থই রাখে না, পাশাপাশি বাইরে থেকে ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য ধরে রাখতেও সমানভাবে কাজ করে। মেথি শাকের উপকারিতাগুলো একে একে আমরা জানবো। তবে তার আগে বলে রাখি, একে আপনি দু’ভাবে ব্যবহার করতে পারেন- খেয়ে এবং চুল ও ত্বকের ক্ষেত্রে বাইরে থেকে লাগিয়ে। আসুন, মেথি শাকের উপকারিতাগুলো জেনে নেওয়া যাক।

কেন মেথি শাক নিয়মিত খাবেন ?

ভেষজ চিকিৎসায় মেথির ব্যবহার কিন্তু আজকের নয়। এর ঐতিহ্য অনেক পুরোনো। ১০০ গ্রাম মেথি শাক থেকে আপনি পেতে পারেন ৫০ ক্যালোরি শক্তি। এছাড়াও প্রতি ১০০ গ্রাম মেথি শাকে ১.৫ গ্রাম (৭%) স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ৬৭ মিলিগ্রাম (২%) সোডিয়াম, ৭৭০ মিলিগ্রাম(২২%) পটাশিয়াম, ৫৮ গ্রাম (১৯%) কার্বোহাইড্রেট এবং ২৩ গ্রাম (৪৬%) প্রোটিন মজুত থাকে। এছাড়াও এই ভেষজ উপাদানটি ভিটামিন সি, ভিটামিন বি ৬, ক্যালশিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়ামে ভরপুর। ঠিক কী কী উপকারিতা পাবেন মেথি শাক খেলে? আসুন, জেনে নিই।

১. কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে রাখুন

রক্তের লিপিড লেভেলকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। কেন না, এটি কোলেস্টেরলের এল.ডি.এল. বা লো ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিন ও এইচ.ডি.এল. বা হাই ডেনসিটি লাইপোপ্রোটিনের মধ্যে ভারসাম্যকে বজায় রাখে।

২. ডায়াবেটিস আছে নাকি? 

মেথি শরীরের গ্লুকোজ মেটাবলিজমকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে আপনি যদি ডায়াবেটিসের রোগী হন, সে ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করতে পারেন। কারণ ভেষজ চিকিৎসায় একে “অ্যান্টি-ডায়াবেটিক এলিমেন্ট” হিসেবে গণ্য করা হয়।

৩. হার্টের সমস্যার ক্ষেত্রে উপকারী

মেথি শাকের আর একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল এটি প্লেটলেট বৃদ্ধির গতিকে কমায়। ফলে, হৃৎপিন্ডে রক্ত জমে যাওয়ার মতো বিপজ্জনক সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়। এর ফলে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যেতে পারে। এছাড়া এটি হার্ট রেট ও ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

৪. পেটের সমস্যায় উপকারী

লিভারের সমস্যার ক্ষেত্রেও মেথি শাকের ব্যবহার খুবই উপকারী। গ্যাসের সমস্যা ও অন্ত্রের অন্যান্য সমস্যাতেও এটি কাজের। ডায়েরিয়া নিরাময়ের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ   কাঠবাদামের উপকারিতাঃ প্রতিদিন কাঠবাদাম খেলে কী হয়?

ফলে বুঝতেই পারছেন যে একসাথে এতগুলো সমস্যার সমাধান যখন একটি উপাদানের মধ্যেই থাকে, তখন তাকে আর উপেক্ষা করে থাকা যায় না। এবার থেকে আপনার ডায়েট চার্টে তাহলে মেথি শাককে রাখতে ভুলবেন না যেন।

তবে এখানেই শেষ নয়, এবারে আমরা চোখ রাখবো বাইরে থেকে মেথি শাক লাগালে ত্বক ও চুলের ক্ষেত্রে কী কী উপকারিতা পাওয়া যায়, জেনে নেবো তার পদ্ধতিও।

ত্বকের যত্নে মেথি শাকের ব্যবহার

অল্প বয়সে মুখে বলিরেখা পড়ে যাওয়ায় মুখ দেখে বয়স্ক লাগা নিয়ে চিন্তিত? অথবা আপনার গালের দাগ ও ব্রণ দূর করার জন্য খুঁজছেন কোনও সহজ সমাধান? মেথি পাতা আপনার ত্বকের ব্যাকটেরিয়াকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে। তাই সমস্ত সমাধান আপনি মেথি পাতাতেই পেতে পারেন। পদ্ধতিটা শুধু জেনে নিই আসুন।

উপকরণ

মেথি পাতা ১ বাটি, পরিমাণ মতো হলুদ গুঁড়ো, দুধ ও জল।

পদ্ধতি

প্রথমে এক বাটি মেথি শাক নিয়ে সেটিকে ব্লেন্ডারে ঢেলে দিন, এবারে পরিমাণ মতো জল দিয়ে ব্লেন্ডারে ভালো মতো মেশান। মিশ্রণটিতে সামান্য দুধ দিয়ে ভালো মতো আর একবার মিশিয়ে নিন। চাইলে দুধের সাথে সামান্য হলুদ গুঁড়োও ব্যবহার করতে পারেন। আপনার ফেস প্যাক তৈরি হয়ে গেলে মুখে লাগিয়ে নিন। এরপর মিশ্রণটিকে ২০ মিনিট মুখে লাগিয়ে অপেক্ষা করুন। তারপর একটি সুতির ভেজা তোয়ালে দিয়ে ধীরেসুস্থে তুলে ফেলুন। এই প্রক্রিয়াটি চাইলে আপনি প্রতিদিন চালিয়ে যেতে পারেন। গালের বলিরেখা, যে কোনও কালো বা সাদা দাগ, ব্রণ– এসব নির্মূল হয়ে যাবে, নিশ্চিন্ত থাকুন।

চুলের যত্নে মেথি শাকের ব্যবহার

মেথিতে আয়রন এবং ভিটামিনের সংমিশ্রণ থাকায় চুলের যাবতীয় সমস্যা, স্ক্যাল্পের সমস্যার সমাধানে এটাকে ব্যবহার করতে পারেন। যেমন ধরুন, খুশকি দূর করতে, অকালে চুল পেকে গেলে তার সমাধানে, স্ক্যাল্পের কোনো সংক্রমণের ক্ষেত্রে এটি খুব কার্যকরী। স্বাস্থ্যকর, ঘন কালো চুল পেতে গেলে মেথি শাক ব্যবহারের কথা ভাবতে পারেন। কীভাবে? আসুন জেনে নিই।

১. 

উপকরণ

মেথি পাতা ও নারকেল তেল।

পদ্ধতি

প্রথমে কড়াইতে কিছুটা নারকেল তেল নিয়ে নিন। তার মধ্যে পরিমাণ মতো মেথি পাতা দিয়ে হালকা আঁচে গরম করুন। মিশ্রণটিকে এবার গ্যাস নেভানোর পরে ঠাণ্ডা করুন। ঠাণ্ডা হলে পাত্রে ঢেলে রাখুন, তারপর স্ক্যাল্পের গোড়ায় দিয়ে সপ্তাহে অন্তত দু থেকে তিনবার মাসাজ করুন।

আরও পড়ুনঃ   রমজানে সুস্থ থাকতে করণীয়

২. 

উপকরণ

মেথি পাতা ২ কাপ, দই ১ কাপ, নারকেল তেল ২ চামচ।

পদ্ধতি

মেথি পাতা নিয়ে ব্লেন্ডারে ঢালুন, এরপর আপনি দই ও নারকেল তেলের সাথে ওই ব্লেন্ডারে মেথি পাতাটিকে ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি প্রস্তুত হওয়ার পর মাথায় স্ক্যাল্পের গোড়ায় ভালো মতো লাগিয়ে অন্তত ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর কোনও হারবাল শ্যাম্পু ব্যবহার করে মাথা ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দু’বার এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন।

তাই মেথি শাক খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তো তুলবেনই, পাশাপাশি ত্বক আর চুলেও লাগানো শুরু করুন এবারে নিয়মিত। আর সকালে বাজার করতে বেরোবার আগে লিস্টে একবার চোখ বোলান, মেথি শাকটা যেন বাদ না যায়।

ওজন কমাতে মেথি শাক: কী ভাবে সাহায্য করে

 
মেথি ভেজানো জল অনেকেই সকালে উঠে খান। একই ভাবে মেথি শাকও হজমের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে প্রচুর তন্তু থাকায় দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি থাকে। তন্তু থাকায় পেট পরিষ্কার হয়। ফলে পুরো সিস্টেম ভালো থাকে। ঠিকমতো পেট পরিষ্কার না হলে খাবার হজমে সমস্যা থেকে ওজন বৃদ্ধির সমস্যা হয়। ফলে মেটাবলিক রেটেও সমস্যা হতে পারে। মেথিতে প্রচুর গ্যলাক্টোমানন থাকায় পলিস্যাকারাইড উৎপন্ন হয়, ফলে ফ্যাটের বিভাজন ঠিক মতো হতে পারে। 

ওজন কমাতে কী ভাবে খাবেন মেথি:

1. মেথি শাক
এই পদটি তৈরি হয় মেথি শাককে পেস্ট করে বিভিন্ন মশা ও ফোড়ন সহযোগে। অনেকে পরিবেশনের আগে উপর থেকে এক চামচ মাখন দেন।
2. মেথি পালক
একটু স্বাদু ও মন ভালো করা খাবার হল মেথি শাক, পালং শাক মিশিয়ে আটার সাথে মেখে তৈরি করা পরোটা বা রুটি। দেখে নিন রেসিপিটি। Here’s a mouth-watering recipe you can try at home.

মেথি শাকের আরও কিছু উপকারিতাঃ

১. মেথি শাক লিভারের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং বদহজম দূর করতে দারুন উপকারী। এটি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। মেথি শাক আমাশয় এবং ডায়রিয়া নিরাময়ে সাহায্য করে। 

২. মেথি শাক রক্তের লিপিড লেভেল ঠিক রাখতে দারুনভাবে সাহায্য করে। এ কারণে এটি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে দারুন কার্যকরী। কোলেস্টেরল কমাতে কিছু পাতা পানিতে ভিজিয়ে সারা রাত রেখে দিন। সকালে পানিটা ছেকে খেয়ে নিন। নিয়মিত এই মিশ্রণটি খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। 

আরও পড়ুনঃ   হস্তমৈথুন থেকে মুক্তি লাভের উপায় : পর্ব-০১

৩. অ্যান্টি –ডায়বেটিক উপাদান থাকায় মেথি শাক রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য দারুন উপকারী।

৪. মেথি শাক খেলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ কারণে এটি হৃদরোগের ঝুঁকিও কমায়। এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের যেকোন ধরনের সেলের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রোধ করে।এছাড়া এটি বিভিন্ন ধরনের দীর্ঘমেয়াদি রোগের জন্যও উপকারী।  

মাটি ছাড়াই হবে মেথি গাছ!

মেথি শাক কেবল খেতেই সুস্বাদু নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও অনন্য এই ভেষজ। মেথি শাক ভাজি কিংবা ভর্তা ভাতের সঙ্গে খেতে পারেন। খুব সহজে এই শাক চাষ করতে পারেন বাসায়ই। এমনি মাটিও প্রয়োজন নেই মেথি শাক চাষে! ছাঁকনির মধ্যেই জন্মাবে মেথি গাছ। জেনে নিন কীভাবে ঘরে চাষ করবেন মেথি শাক।

মেথি গাছ

মেথির বীজ সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন পানি ছেঁকে একটি ছড়ানো পাত্রে ভেজা বীজগুলো ছড়িয়ে দিন। একটি মোটা কাপড় ভিজিয়ে ঢেকে দিন পাত্রটি। উপরেও খানিকটা পানি স্প্রে করে দিন উপরে। এভাবে রেখে দিন একদিন। পরদিন কাপড় উঠিয়ে দেখুন বীজ থেকে বের হয়েছে শিকড়। এবার একটি প্লাস্টিকের ছাঁকনি নিন। ছাঁকনির নেট একটু বড় হবে। অঙ্কুরোদগম হওয়া বীজগুলো ছাঁকনিতে ঢেলে পানিসহ একটি বাটির উপর বসিয়ে দিন। এমনভাবে রাখতে হবে যেন পানি ছাঁকনির উপরে না ওঠে। ভেজা কাপড় দিয়ে ঢেকে দিন ছাঁকনি। পরদিন কাপড় তুলে দেখুন ছাঁকনির নিচ দিয়ে শিকড় বেরিয়ে গেছে। আবারো ঢেকে পানি ছিটিয়ে দিন। তিন দিন এভাবে রাখুন। মাঝে মাঝে কাপড়ের ওপর পানি স্প্রে করতে হবে। তিন দিন পর দেখবেন সবুজ গাছে পূর্ণ হয়ে গেছে পুরো ছাঁকনি। প্রতিদিন সকালে কিছু সময়ের জন্য রোদে দিন মেথি গাছ। এতে দ্রুত বাড়বে গাছ। ৮ থেকে ১০ দিন পর মেথি শাক প্রস্তুত হয়ে যাবে খাওয়ার জন্য।

আরও পড়ুনঃ মেথির উপকারিতা: যৌনশক্তির মহৌষধ মেথি!

মেথি খেতে চান? বিডি হেলথ মেথি কিনুন এবং নিয়মিত ব্যবহার করুন। 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

20 + nineteen =