মায়ের বুকের দুধ বাড়ানোর উপায় কী: আকুপাংচার কি বুকের দুধ বাড়ায়?!

0
146
মায়ের বুকের দুধ বাড়ানোর উপায় কী আকুপাংচার কি বুকের দুধ বাড়ায়!
মায়ের বুকের দুধ বাড়ানোর উপায় কী আকুপাংচার কি বুকের দুধ বাড়ায়!

শিশুর সঠিক বিকাশের জন্য মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য শিশুকে নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। শিশুটি পর্যাপ্ত বুকের দুধ পাচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সমস্ত স্তন্যদানকারী মহিলাদের পর্যাপ্ত বুকের দুধ নাও থাকতে পারে।

মায়ের বুকের দুধ বাড়ানোর উপায়

স্তনে দুধের ঘাটতি দেখে অনেক মা বাজারের প্রচলিত ফর্মুলা দুধ কিনে খাওয়ান। কিন্তু কোনো ফর্মুলা দুধই মায়ের দুধের মতো ভালো হতে পারে না। সেজন্য শিশু পর্যাপ্ত দুধ না পেলে প্রথমে প্রাকৃতিক উপায়ে বুকের দুধ বাড়ানোর চেষ্টা করুন।

কিছু উপায়  আছে যা দুধ উৎপাদনকে উদ্দীপিত করতে পারে। আবার কিছু খাবার রয়েছে যা বুকের দুধের পরিমাণ বাড়াতে পারে।

মায়ের বুকের দুধ বাড়ানোর উপায়

1. শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মাকে চিন্তামুক্ত থাকতে হবে। একটি শিশু যখন খেতে চায় না, তখন তাকে জোর করে খাওয়ানো যাবে না। শিশুকে খাওয়ানোর সময় একটি নির্জন ঘরে বসে খাওয়াতে হবে। শিশুকে ধীরে ধীরে এবং ধৈর্য ধরে খাওয়াতে হবে। শিশুর হাই তোলার সময় তা বুকের সাথে মিশিয়ে সাবধানে খাওয়াতে হবে।

2. অনেক সময় বাচ্চা ঘুমিয়ে থাকলে মা বাচ্চাকে খাওয়াতে চান না। কিন্তু তারপরও বাচ্চাকে খাওয়াতে হবে। শিশুকে তুলে নিয়ে পায়ে সুড়সুড়ি দিয়ে খেতে হবে।

3. শুরুতে দুধে বেশি পানি থাকে, দুধ খুব পাতলা হয়। পরবর্তীতে দুধে বেশি পুষ্টি থাকে, পানির পরিমাণ কম হয়। তাই একটু খাইয়ে অন্য স্তনে যাওয়া যাবে না। একবার এক স্তনের দুধ খাওয়ানো ভালো। তবে পরের বার যখন বাচ্চা খেতে চাইবে তখন অন্য স্তনের দুধ খাওয়াতে হবে।

4. বাচ্চাকে বারবার খাওয়াতে হবে, সে যতবার চাইবে ততবারই তাকে খাওয়ান। বাচ্চাকে সময় নিয়ে খাওয়াতে হবে। যতক্ষণ সে খেতে চায় ততক্ষণ তাকে খাওয়াতে হবে। মনে রাখবেন, একটি শিশু যত বেশি দুধ খাবে, মায়ের স্তনে তত বেশি দুধ উৎপন্ন হবে। বুকের দুধ খালি হলে আবার দুধ তৈরি হয়। তাই বারবার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।

আরও পড়ুনঃ   ৮৩ শতাংশ সিজারিয়ান প্রসব হয় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে

5. বাচ্চাকে ঘন ঘন দুধ চোষাতে হবে। ঘন ঘন দুধ চুষলে মায়ের স্তনে দুধ আসবে। মায়ের দুধের জন্য দুটি হরমোন কাজ করে। একটি প্রোল্যাক্টিন এবং অন্যটি অক্সিটোসিন। শিশু যত বেশি চুষবে মায়ের মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি তত বেশি উদ্দীপিত হবে। তারপর প্রোল্যাক্টিন তৈরি হবে এবং তখন মায়ের দুধ বেশি হবে। তাই মায়ের দুধ বাড়ানোর অন্যতম উদ্দীপক হল শিশুর দুধ চোষা।

6. শিশুর মুখে কোনো বোতল বা চুষনি রাখা উচিত নয়। কারণ, পরবর্তীতে শিশুটি আর মায়ের দুধ চাটতে চাইবে না।

7. শিশুকে সঠিকভাবে খাওয়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশু যদি স্তনের বোঁটা মুখে ধরে রাখতে না পারে, তাহলে ভুল অবস্থানে থাকায় শিশু দুধ পাবে না। স্তন সম্পূর্ণ খালি থাকলে মা পর্যাপ্ত বুকের দুধ উৎপাদন করতে সক্ষম হবেন। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে না পারলে বুকের দুধ ফুরিয়ে যাবে না। আবার দুধ তৈরি হবে না। তাই দুধ ফেলে দিতে হবে।

8. মাকে প্রচুর পানি পান করতে হবে। মাকে সবসময় প্রচুর পানি পান করা উচিত যাতে তার শরীর সবসময় হাইড্রেটেড থাকে। প্রতিদিন কমপক্ষে 8-12 গ্লাস পানি পান করাতে হবে। এটা স্বাভাবিকভাবেই মায়ের স্তনে দুধ বাড়ায়।

9. প্রতিদিন নিয়ম করে নিয়মিত বিরতিতে শিশুকে নিয়মিত খাওয়াতে হবে। কিন্তু স্তনে দুধ এলে শিশুকে একটু চাটতে হবে। তাহলে পরবর্তীতে ভালো দুধ পাওয়া যাবে।

10. বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়, শিশুকে উভয় স্তন খাওয়ানোর চেষ্টা করুন। একটি স্তন খাওয়ানো হলে, পাশ ফিরে অন্য স্তনকে খাওয়াতে হবে। যদি একটি স্তন সবসময় খাওয়ানো হয়, বাকি স্তন আর দুধ উৎপাদন করবে না।

11. একই সময়ে শিশুকে বুকের দুধ এবং বোতলের দুধ খাওয়ালে বুকের দুধ খাওয়ার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে। জন্মের এক বা দুইদিনে শিশুকে 2/3 বোতল ফর্মুলা দুধ খাওয়ানো হলে শিশু আর মায়ের বুকের দুধ চাটতে চাইবে না।

আরও পড়ুনঃ   সোয়াইন ফ্লু

12. বাচ্চা দুধ পাচ্ছে না বলে তাকে কখনই ফর্মুলা দুধ দেওয়া উচিত নয়। তাহলে বাচ্চা না খেতে খেতে মায়ের দুধ আরো কমে যাবে। শিশুকে কখনই মুখে পেসিফায়ার/ প্রশমক দেওয়া উচিত নয়। তাহলে শিশুর স্তনের বোঁটা কনফিউশন হবে। দুধ আগে থেকে স্তন থেকে পাম্প করে একটি চামচ দিয়ে শিশুকে দেওয়া যেতে পারে।

আকুপাংচার বুকের দুধ বাড়ায়?

কিছু ডাক্তারের মতে, আকুপাংচার স্তন্যপান করানো মহিলাদের বুকের দুধের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। নিউরোপ্যাথিক চিকিৎসক রাল্ফ এসপোজিতো বলেন, ‘স্তনে দুধের পরিমাণ বাড়াতে আকুপাংচার ভালো কাজ করে। স্মল ইন্টেস্টাইন ১১ নামক একটি বিন্দু একজন মহিলার প্রোল্যাক্টিনের মাত্রা বা হরমোনের মাত্রা বাড়াতে পারে যা গর্ভাবস্থার পরে দুধ উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে।

এছাড়াও, শিশু যত বেশি দুধ চুষবে, তত বেশি হরমোন নিঃসৃত হবে এবং তত বেশি দুধ তৈরি হবে। তাই বুকের দুধ তৈরির একমাত্র উদ্দীপনা হল শিশুর বুকের দুধ চুষা। বুকের দুধ না পাওয়ায় শিশুকে ফর্মুলা খাবার দেওয়া যাবে না। এতে মায়ের দুধ আরও কমে যাবে এবং শিশুর বুকের দুধ খাওয়ার অভ্যাস চলে যাবে।

কোনো অবস্থাতেই শিশুর মুখে বোতল বা চুষনী রাখা উচিত নয়। ফলে শিশু তার মায়ের স্তনের বোঁটা মুখে নিতে চাইবে না। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খাওয়া উচিত নয়। এতে বুকের দুধ কমে যেতে পারে। তাই এ সময় অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

আরো পড়ুনঃ
মহিলাদের দুধ বৃদ্ধির উপায়- ডাক্তার নাফিসা আবেদীন

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 + seven =