দৈহিক উচ্চতা বৃদ্ধির উপায়: মাত্র এক মাসেই উচ্চতা বাড়ায় এই ২৩টি খাবার!

0
835
উচ্চতা বাড়ানোর খাবার

মানুষের লম্বা হওয়ার ব্যপারটা পুরোপুরি জিনগত। আমাদের উচ্চতা হিউম্যান গ্রোথ হরমোন (এইচজিএইচ) নামে একটি হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। পিটুইটারি গ্ল্যান্ড থেকে এই হরমোন নিঃসরিত হয়। বলা হয়ে থাকে কেউ যদি নিয়মিতভাবে একটি সুস্থ্য ও সক্রিয় জীবন-যাপন করতে পারেন তাহলে তার উচ্চতা বাড়ানো সম্ভব। শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও উচ্চতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়ক ভুমিকা পালন করে। চিকিৎসকদের মতে, একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত আমাদের দেহের বৃদ্ধি ঘটে।অনেকেই ভাবেন আর একটু উচ্চতা বাড়াতে পারলে কত ভালোই না হতো! উচ্চতা বাড়াতে ব্যায়াম বা ওষুধের চেয়েও কাজে দেয় খাবার। পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক বৃদ্ধি ঘটে না। কোন খাবার দেহের বৃদ্ধি অর্থাৎ লম্বা হতে সহায়তা করে, আসুনে জেনে নেওয়া যাক।

দৈহিক উচ্চতা বৃদ্ধির খাবার
দৈহিক উচ্চতা বৃদ্ধির খাবার


১. শীম:
শীমে আছে প্রচুর ভিটামিন এবং প্রোটিন যা আপনার উচ্চতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রধান ভুমিকা পালন করে। শীমে থাকা খনিজ উপাদান টিস্যু এবং মাংসপেশি গঠনে কাজ করে। যা স্বাভাবিকভাবেই উচ্চতা বাড়ায়।
২.মটরশুঁটি:
মটরশুঁটি ছোট বড় সবাই বেশ পছন্দ করেন। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, লুটেইন ও প্রোটিন আছে যা শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এবং উচ্চতা বাড়াতে সহায়ক। তবে শুকনো মটরশুঁটিতে এই সকল উপাদান উপস্থিতি থাকে না।
৩. ব্রোকলি:
উচ্চতা বৃদ্ধিতে সবুজ রঙের এই সবজিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সামান্য তেতো স্বাদের কারণে অনেকে ব্রোকলি পছন্দ করেন না। কিন্তু এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ফাইবার, আয়রন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা উচ্চতা বাড়াতে সহায়তা করে।
৪. শালগম:
শালগম অনেকেরই পছন্দের সবজি। এই শালগমই আপনাকে উচ্চতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। শালগমে আছে ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, প্রোটিন, এবং ফ্যাট। এই উপাদানগুলো উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
৫. গরুর দুধ:
গরুর দুধে আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম। ক্যালসিয়াম আমাদের হাড়ের উন্নয়ন ও হাড় শক্তিশালীকরণে কাজে লাগে। গরুর দুধে থাকা ভিটামিন এ দেহের ক্যালসিয়াম সংরক্ষণেও কাজ করে এবং এর সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিতে সহায়তা করে। ক্যালসিয়াম প্রাকৃতিকভাবে উচ্চতা বাড়ানোর সহায়ক উপাদানগুলোর একটি।
৬. ফল:
মাল্টা, পেপে, আম, এপ্রিকোট এবং প্যাশন ফ্রুটে আছে ভিটামিন, পটাশিয়াম, আঁশ এবং ফোলেট। এর সবগুলো উপাদান হাড়ের বৃদ্ধি এবং উচ্চতা বৃদ্ধিতেও কাজ করে।
৭. তালের গুড়+দুধ:
খালি পেটে এই মিশ্রণটি খেলে দুর্দান্ত ফল পাওয়া যায়। দুধের সঙ্গে তালের গুড় মিশিয়ে খালি পেটে দুধের কার্যকারিতা দশগুন বৃদ্ধি পায়। এই মিশ্রণটি খেলে সবগুলো পুষ্টি উপাদান সহজেই শুষে নিতে পারে আমাদের দেহ।
৮. কালো তিল+কাজুবাদাম+অশ্বগন্ধা+দুধ:
অশ্বগন্ধা এইচজিএইচ হরমোন নিঃসরণের হার ঠিক রাখে। আর এ কারণেই এটি উচ্চতা বৃদ্ধিতে এতটা কার্যকর। এটি হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং ঘনত্ব বাড়াতেও কার্যকর। কালো তিলে আছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন বি ও আয়রন। এটি ক্যালসিয়ামেরও ভালো উৎস। হাড়ের বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক এসব উপাদান। কাজুবাদামে আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং পটাশিয়াম যেগুলো হাড়ের বৃদ্ধিতে জরুরি খনিজ উপাদান।
আর এই সবগুলো উপাদান দুধের সঙ্গে মিলে উচ্চতা বাড়ায়। প্রতিদিন রাতে দুধের সঙ্গে এক চামচ অশ্বগন্ধা, কাজুবাদাম এবং কালো তিলের পাউডার মিশিয়ে পান করুন।
বিঃদ্রঃ ভেজালের ভিড়ে বিডি হেলথ -এর মানসম্পন্ন কাজুবাদাম এবং অশ্বগন্ধা কিনতে পারেন। 
৯. সয়া বিন:
সয়াবিনের প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন আছে যার টিস্যু ও হাড় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রতিদিন ৫০ গ্রাম সয়াবিন খান আর দেখুন আপানার উচ্চতা কয়েক ইঞ্চি বেড়ে গিয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহেই।
১০. বাদাম:
বাদামও উচ্চ পুষ্টিগুনে সমৃদ্ধ। বাদাম স্বাস্থ্যের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার। বাদামে থাকা বিভিন্ন প্রোটিন ও ভিটামিন দেহে বিভিন্ন পুষ্টি যোগায় ও লম্বা হতে সহায়তা করে।এতে যে ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যামাইনো এসিড থাকে তা দেহের টিস্যু মেরামত এবং নতুন হাড় ও মাংসপেশির বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ফলে উচ্চতাও বাড়ে।
১১. সবুজ পাতাবহুল শাক-সবজি:
অসংখ্য উপায়ে সবুজ পাতাবহুল শাক-সবজি আমাদের উপকারে আসে। এতে থাকে প্রচুর খাদ্য আঁশ, ভিটামিন এবং খনিজ পুষ্টি যা স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক। এছাড়া দেহের গ্রোথ হরমোন নিঃসরণে উদ্দীপনাও যোগায় তা।১২. গাজর:
এই খাবারটি ভিটামিন এ এবং সি সমৃদ্ধ। হাড়ে ক্যালসিয়াম সংরক্ষণ এবং হাড়ের বৃদ্ধিতে উৎসাহ যোগায় এসব উপাদান। প্রতিদিন অন্তত ৩টি করে গাজর খেলে দেহের উচ্চতা বাড়ে।
১৩. পূর্ণ শস্য:
দেহ থেকে বর্জ্য নিঃসরণে সহায়ক পূর্ণ শস্যজাতীয় খাদ্য। যার ফলে আমরা যা কিছুই খাই না কেন তার কার্যকারিতা বেড়ে যায়। এই জাতীয় খাদ্য ক্যালসিয়ামে সমৃদ্ধ যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য দরকারি। এছাড়া এতে আছে ক্যালোরি যা বয়ঃসন্ধিকালে উচ্চতা বাড়াতে সহায়ক।
১৪. ডিম:
ডিম একটি সুষম খাদ্য। এতে প্রচুর পরিমান প্রোটিন ও ভিটামিন রয়েছে, যা শিশুর বৃদ্ধিতে সহায়ক। ডিম উচ্চতা বাড়াতে সবচেয়ে কার্যকর জনপ্রিয় খাদ্য। ডিমে আছে ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম এবং রিবোফ্ল্যাবিন। ডিমে থাকা উচ্চমাত্রার প্রোটিন উপাদান হাড়ের উন্নয়ন ও হাড়কে শক্তিশালীকরণে কাজ করে।
১৫. কুমড়ো বীজ:
এরা ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ। যা হাড় ও দাঁতের গঠনের জন্য জরুরি। এছাড়া এতে আছে অ্যামাইনো এসিড যা উচ্চতা বাড়াতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে।
১৬. স্যুপ:
স্যুপ স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযোগী খাবার। এর মধ্যে থাকা ক্যালোরি ক্ষুধাবর্ধক। স্যুপ খেলে তাই খাবার খাওয়ার প্রবনতা বেড়ে। যা দেহের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে।
১৭. আভাকাডো:
আভাকাডো দেহে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে, যা লম্বা হওয়ার জন্য সহায়ক। সূত্র: হেলথ.কম।
১৮. আপেল:
আপেলে প্রচুর পরিমান ফাইবার ও পানি থাকে, যা বাচ্চাদের লম্বা হতে সাহায্য করে।
১৯. ডার্ক চকোলেট:
বাচ্চাদের স্বাস্থ্যের জন্য সাধারণ চকলেট ক্ষতিকর। তবে ডার্ক চকোলেট তাদের লম্বা হতে সহায়তা করে।
২০. প্রোটিন:
প্রোটিনে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড আমাদের দেহের হাড়, পেশি ও টিস্যু গঠনে সাহায্য করে তাই প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার মাছ, ডাল ও বাদাম বেশি রাখুন। এগুলো খাওয়ার পাশাপাশি চিনি, ট্রান্স ফ্যাট এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণের পরিমাণ কমাতে হবে।
২১. ঢেঁড়স:
উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়ক যে সবজিগুলি আছে, তার মধ্যে ঢ্যাড়স অন্যতম। ঢ্যাড়সে আছে ভিটামিন, মিনারেল, কার্বোহাইড্রেট, জল ও ফাইবার যা গ্রোথ হরমোনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে উচ্চতা বাড়াতে সহায়তা করে।
২২. পালং শাক:
পালং শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ফাইবার ও মিনারেল। আর এই উপাদানগুলি উচ্চতা বৃদ্ধি করে থাকে। নিয়মিত পালং শাক খেলে অল্প কিছু দিনের মধ্যে উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।
২৩. বাঁধাকপি:
বাঁধাকপিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, আয়রন, প্রোটিন ও ফাইবার আছে। যা উচ্চতা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি ক্যান্সার প্রতিরোধ করে থাকে। বাংলাদেশ জার্নাল

আরও পড়ুনঃ   বেশিদিন বাঁচতে হলে উচ্চ রক্তচাপকে দূরে রাখুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four − one =