Thursday, November 21, 2019
Home বিডি হেলথ পণ্য বিডি হেলথ তালমিছরি

বিডি হেলথ তালমিছরি

Description

তালমিছরি কেন এত উপকারি

তালমিছরি ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই সমান ভাবে জনপ্রিয়। এটি যেমন খেতে ভালো তেমনি উপকারী। তালমিছরিকে’ ন্যাচারাল সুগার’ বলা হয়ে থাকে। কারণ এটি তৈরী হতে কোন রকম কেমিকেল ব্যবহৃত হয় না। তালগাছের রস থেকে এই মিছরি তৈরী হয়। আমরা যে চিনি ব্যবহার করি তার তুলনায় তালমিছরিতে কার্বোহাইড্রেড অনেক কম থাকে। তালুমিছরির কথা শুনলেই যাদের মনে পড়ে সুগার, প্রেশার বা চিনি খাওয়ার যে খারাপ দিকগুলি,তাদের অবগতির জন্য জানাই,বাজারে চলতি চিনি আর মিছরির মধ্যে পার্থক্য আছে। ফলে মিছরির গুনাগুণ অপরিসীম।

তবে তার আগে আসুন জেনে নিই তালমিছরি বা চিনির মিছরি কীভাবে তৈরি হয়। তালমিছরি কিন্তু প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি মিষ্টি। যাকে বলে আনপ্রসেসড সুগার। আজকাল সব ধরনের প্রসেসড খাবার এর বিরুদ্ধে সব ডাক্তার থেকে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ সরব। কিন্তু তালমিছরি এই দোষে দুষ্ট নয়। এতে কোনো রকমের ক্ষতিকর উপাদান মেশানো হয় না। ব্লাড সুগার বাড়ানোর জন্য যেটি দায়ী,সেই গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স (GI)স্বাভাবিকভাবে অন্যন্য খাবারে থাকে ৫৫%, কিন্তু তালমিছরিতে তার পরিমাণ মোটে ৩৫%। তাই তালমিছরি খেলে যাদের সুগার আছে তাদেরও সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণ এ থাকে। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই খাবেন। যাদের সুগার নেই,তারা নিশ্চিন্তে এটি খেতে পারেন।

তালমিছরিতে থাকে খাঁটি তালের রস। সেই তাল গুড় জ্বাল দেওয়া হয় একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। এরপরে সেটিকে ঢালা হয় ট্রেতে বা কোনো পাত্রে | এরপরে একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় এই ট্রেগুলিকে চট দিয়ে ঢেকে রাখা হয় একটি বন্ধ ঘরে। সপ্তাহ খানেক পরে ওপরে ও নিচের অংশগুলি শুকিয়ে দানাতে পরিণত হয়,অর্থাত্‍ তালমিছরিতে পরিণত হয়। মাঝের লেয়ারটি তখনও নরম এবং জলীয় ভাব থাকে এবং সেটিকে বিশেষ উপায়ে আলাদা করে নেওয়া হয়। মিছরি তৈরি করার মরসুম মোটে চারটি। চৈত্রের মাঝামাঝি থেকে শ্রাবণের প্রথমার্দ্ধ,এই সময়েই বানানো হয় তালমিছরি। এভাবেই তৈরি হয় আমাদের অতিপরিচিত তালমিছরি।

তাল মিছরির পুষ্টিগুণ:

তাল মিছরিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যাসেনসিয়াল ভিটামিন, মিনারেলস, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, আয়রন, জিংক, ফসফসরাস ও অ্যামাইনো এসিড রয়েছে। একটি সহজলভ্য উপাদান। ভিটামিন বি১২ ও পাওয়া যায় তাল মিছরিতে। তাই যারা নিরামিষ জাতীয় খাবার খান তাদের জন্য তাল মিছরি খুবই উপকারি। এছাড়াও ২৪টির মতো প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে তাল মিছরিতে। এ জন্য তাল মিছরি আয়ুবের্দীয় চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

তালমিছরি কত রকম ভাবে আমাদের জন্য উপকারী আসুন জেনে নিই।

১) আনিমিয়া : হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন,তালমিছরিতে প্রচুর পরিমান আয়রন থাকার দরুণ এটা আনিমিয়াতে ভীষণ ভাবে কাজে দেয়। বিশেষত মেয়েদের জন্য তালমিছরি খুব উপকারী। আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন লেভেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

২) হাড়ের সমস্যা সমাধান : প্রচুর পরিমাণ ক্যালশিয়াম আর পোট্যাশিয়াম থাকার কারণে তালমিছরি হাড় ও দাঁত শক্ত করে ও হাড়ের সমস্যা দূর করে।মেয়েদের মেনোপজের পরে হাড় ক্ষয় হতে শুরু করে এবং হাড় ভাঙ্গার সমস্যা একটি দৈনন্দিন সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এই ক্ষয় রোধ করতে নিয়মিত তালমিছরি সেবন করলে উপকার পাওয়া যায়। এই দুটি কারণের জন্য বাচ্চাদের জন্যও তালমিছরি খুব উপকারী।

৩) সর্দি কাশির উপশম : তালমিছরির রস কাশি উপশম করতে সাহায্য করে এবং গলায় শ্লেষ্মা নরম করে দেয়, ফলে গলায় খুসখুসানি কমে যায়।এক টুকরো তালমিছরি মুখে নিয়ে চুষলে সর্দিতে এবং কাশিতে আরাম পাওয়া যায়। খুব ছোট বাচ্চাদের জন্য ওষুধ না ব্যবহার করে তালমিছরির প্রয়োগ করে দেখতে পারেন। এটি ঠান্ডা লাগাও প্রতিরোধ করে। কাশতে কাশতে গলায় ব্যথা হলে এক টুকরো তালমিছরি গোলমরিচ আর ঘি দিয়ে পেস্ট বানিয়ে এক চামচ খেলে গলা ব্যাথায় উপকার মেলে। এক চামচ তালমিছরি,গোলমরিচ এবং আমন্ড-এর পেস্ট রোজ রাতে গরম দুধের সাথে খেলে নাকের শ্লেষ্মা বের করে দেয় এবং ঠান্ডা লাগা প্রতিহত করে।

৪) চোখের দৃষ্টি বাড়ায় : বাদাম,মৌরী,তালমিছরি এবং গোলমরিচ এর গুঁড়ো করে রোজ রাতে ১ চামচ করে দুধের সাথে খেলে তা চোখের দৃষ্টি বাড়ায়।

৫) কিডনি স্টোন এর জন্য : পেঁয়াজের রসের সাথে তালমিছরি মিশিয়ে কিছুদিন খেলে কিছুদিনের মধ্যেই প্রস্রাবের সাথে কিডনি স্টোন বেরিয়ে যায় । তালমিছরি কিডনির জন্য উপকারী।

৬) পেটে ব্যথাঃ : তালমিছরি পেটের ব্যথার উপশম এবং পাতলা পায়খানাতে ভীষণ কার্যকরী । নিমপাতার সাথে তালমিছরি খেলে পেটের ব্যথা কমে। ধনে গুঁড়োর সাথে তালমিছরি গুঁড়ো মিশিয়ে জলের সাথে দিনে ২-৩ বার খেলে পাতলা পায়খানা আটকে যায়,বিশেষ করে গরম কালে হিট স্ট্রোক হলে এটি খুব কাজে লাগে।

৭) নাক দিয়ে রক্ত পড়া : অনেকেরই গরমকালে নাক দিয়ে রক্তপাত হয়। নাকের কাছে মিছরি গুঁড়ো করে শুঁকলে রক্তপাতের উপশম হয়।

8) মুখের আলসারঃ মুখের আলসারের জ্বালাতে উপশম পেতে তালমিছরি আর এলাচ গুঁড়ো করে পেস্ট করে মুখের ভেতরে লাগালে আরাম পাওয়া যায়। আলসার কমে। বাচ্চাদের জন্যও ব্যবহার করা যায়।

৯) নতুন মায়েদের জন্য : বলা হয়,ব্রেস্ট মিল্ক এর পরিমাণ বাড়ানোর জন্য তালমিছরি খুব উপকারী। কালো তিল এর সাথে তালমিছরি গুঁড়ো করে গরম দুধের সাথে দিনে দুবার খেলে ব্রেস্ট মিল্ক উত্‍পাদনে সহায়তা মেলে।

১০) মাথা ধরা : সাইনাসের জন্য বা চোখের জন্য মাথা ধরা খুব সাধারণ একটি ব্যাপার। বহু মানুষ এই সমস্যায় ভোগেন। আদার রসের সাথে তালমিছরি খেলে সাইনাস জনিত মাথাধরা থেকে উপশম মেলে। তুলসী পাতা, তালমিছরি আর গোটা মরিচ একসাথে খেলেও উপকার পাওয়া যায়।

১১) কন্সটিপেশন : তালমিছরিতে ডায়েটারি ফাইবারের প্রাচুর্যের জন্য এটি হজমে সাহায্য করে এবং কন্সটিপেশান সারিয়ে তোলে। এছাড়াও,চিনি বা মধুর তুলনায় তালমিছরি আমাদের শরীরে অনেক কম পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট তৈরি করে,ফলে তালমিছরি সেবনে ক্লান্তি অনেক কম হয়, শরীরকে সতেজ রাখে।

১২) গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ : তালমিছরিতে জি আই বা গ্লাইসেমিক ইনডেক্স এর পরিমান চিনি ,মধু ইত্যাদির থেকে অনেক কম থাকে,যার থেকে আমাদের শরীরে কার্বোহাইড্রেড কম তৈরী হয় ফলত এটি আমাদের রক্তে Glucose এর মাত্রা কে বাড়তে  দেয়না। এইকারণে এটি ডায়াবেটিস প্রতিরোধ এ সহায়তা করে।

১৩) ডায়রিয়াতে : বার বার পাতলা পায়খানা বা বমি হলে আমাদের শরীর থেকে ইলেক্ট্রোলের মাত্রা কমে যায়। ও আর এস এর পরিবর্তে তালমিছরি জলের সাথে মিশিয়ে বারে বারে খাওয়ালে এই ঘাটতি পূরণ হয় এবং শরীরে এনার্জি ফেরত আসে।

১৪) শিশুদের ব্রেন ডেভেলপমেন্ট : ছোট শিশুদের ব্রেন ডেভলপমেন্ট এর জন্য তালমিছরি অত্যন্ত উপযোগী। এছাড়া এটি নিয়মিত খেলে ছোট শিশুদের হাড় শক্ত হয়। এছাড়া ঠান্ডা জনিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। কারণ এটি রোগপ্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করে।

১৫) আর্থারাইটিস,শ্বাসপ্রশ্বাস জনিত সমস্যা,স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর জন্য ও তালমিছরি খুব উপকারী। তাই নানা ধরনের আয়ুর্বেদিক ওষুধে এই সব সমস্যার সমাধানের জন্য তালমিছরির ব্যবহার বহুদিনের।

16) শরীরে এনার্জি

তালমিছরি  ORS এর পরিবর্তেও খাওয়া যেতে পারে। ডাইরিয়া বা বেশি বমি হতে থাকলে আমাদের শরীরে ইলেক্ট্রোল্যাটস এর পরিমান কমে যায়। ফলত আমাদের শরীর নিস্তেজ হয়ে পরে। তালমিছরি জলের সাথে মিশিয়ে খেলে আমাদের শরীরে এনর্জি ও ইলেক্ট্রোল্যাটস এর ক্ষয়কে পুষিয়ে, শরীরকে তাড়াতাড়ি সুস্থ্য করতে সাহায্য করে।

17) কোষের সুরক্ষা

তালমিছরি তৈরী হতে কোনোরকম কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয় না, উপরন্তু স্বাভাবিক ভাবেই এতে ভিটামিন, পটাসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ এবং কপার ইত্যাদি জরুরি মিনারেলস থাকে যা আমাদের শরীরের কোষগুলিকে সুস্থ্য রাখে, এবং সুস্থ্য কোষ গঠনে সাহায্য করে। এছাড়া আমিনো অ্যাসিড শরীরে প্রোটিন ব্লক তৈরী করে যা কোষগুলিকে ঠিক  রাখতে সাহায্য করে।

18)শরীরের জন্য ভালো 

তালমিছরিতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন বি -১,ভিটামিন বি২, ভিটামিন বি ৩, ভিটামিন বি ৬, ভিটামিন বি ১২ থাকে। এছাড়া এতে অ্যামিনো অ্যাসিড, জিঙ্ক, পটাশিয়াম, এবং আয়রন থাকে। ফলত যে কোনো ক্ষেত্রেই এটি আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত ভালো।

19) রোগের যম 

এটি  হারবাল ওষুধ তৈরী করতে ব্যবহৃত হয়। এর বিভিন্ন উপাদান আমাদের অনেক রকম রোগের প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সর্দি কাশি হলে বা ঠান্ডা লেগে যে সমস্ত সমস্যা হয় তা প্রতিরোধ করতে তালমিছরি খাওয়া হয়। এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ, এনিমিয় লোপ্রেসার এবং হাঁপানি ইত্যাদি রোগের ওষুধ তৈরী করতে তালমিছরি ব্যবহৃত হয়।

তালমিছরি ডায়েটারি ফাইবার এ পরিপূর্ণ ফলত এটি আমাদের হজমে সাহায্য করে এবং এটি কনস্টিপেশন সরিয়ে তুলতে সাহায্যকারী।তালমিছরি আমাদের শরীরে কম কার্বোহাইড্রেড তৈরী করে। ফলত চিনি বা মধুর পরিবর্তে তালমিছিরি আমাদের শরীরে ক্লান্তি কমায় এবং শরীরকে সতেজ রাখে।

উপরে বর্ণিত তালমিছরির গুণ থেকে উৎসাহিত হয়ে যদি তালমিছরি কিনতে চান তবে বিডি হেলথ তালমিছরি নিশ্চিন্তে কিনতে পারেন ,সাথে পেতে পারেন মেম্বারশিপ বেনিফিট।

Reviews

There are no reviews yet.

Be the first to review “বিডি হেলথ তালমিছরি”

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − nine =