ত্বক কালো হয় কেন? ত্বক কালো হওয়ার কারণ কী?

1
2032
ত্বক কালো হয় কেন?

মানুষের গায়ের রং সাদা বা কালো হয় কেন?

আমাদের ত্বকে রয়েছে মেলানোসাইট নামের বিশেষ কোষ, যা তৈরি করে মেলানিন নামের রঞ্জক পদার্থ।  এই মেলানিনই ঠিক করে কার গায়ের রং কেমন হবে অর্থাৎ গায়ের রং সাদা বা কালো হয় মূলত ত্বকে এই মেলানিনের উপস্থিতির কারণে। যার শরীরে মেলানিন যতো বেশি, সে ততো কালো। মেলানিনের মাত্রা আবার নির্ভর করে জাতিসত্তা, বংশগতি, সূর্যালোকের উপস্থিতির ওপর। মেলানিন তৈরি বেড়ে গেলে ত্বকের রং গাঢ় বা কালো হয়ে যায়, যেমনটা ঘটে রোদে পুড়লে, আবার মেলানিন অস্বাভাবিক কমে গেলে রং ফ্যাকাশে সাদা হয়ে যাবে, যেমন শ্বেতী রোগে।

ত্বক যেন পুড়ে ছাই! যেখানে সেখানে কালচে দাগ। সেই দাগছোপের আড়ালে যেন আসল চেহারাটাই ঢেকে যায়। বেশিরভাগ মহিলাদের কাছে এটি সাধারণ একটি সমস্যা। তবে শুধুমাত্র রোদে পুড়ে ত্বক কালো হয় না। কখনো নানা রোগ-বালাই, বিশেষ করে হরমোনের প্রভাবে গায়ের রঙে পরিবর্তন হতে পারে। রং পাল্টাতে পারে নানা ওষুধপত্রের প্রভাবেও। আবার মানসিক চাপের কারণেও ত্বক কালো হয়ে যেতে পারে। আরও বিভিন্ন কারণ রয়েছে স্কিন কালো হয়ে যাওয়ার পিছনে। ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে তাই আগে থেকেই জেনে রাখুন, কী কী কারণে ত্বক কালো হয়ে যায় –

লিভারের সমস্যা: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ত্বক কালো হয়ে যাওয়ার পিছনে এই কারণটি দায়ী থাকে।

হরমোনের পরিবর্তন: বিভিন্ন বয়সে শরীরের হরমোনের পরিবর্তন হতে থাকে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন হরমোন ক্ষরিত হয় শরীরে। যেমন, গর্ভাবস্থায় বা গর্ভনিরোধক ওষুধ খাওয়ার কারণে শরীরে যে হরমোন ক্ষরিত হয়, তার কারণেও ত্বক কালো হয়ে যেতে পারে।

জিনগত কারণে: ত্বকের রং অনেক জিনের উপরও নির্ভর করে। বাবা-মায়ের গায়ের রং অনুযায়ী সন্তানের গায়ের রং হয়। তবে তার ব্যতিক্রমও আছে।

সূর্যের ক্ষতিকারক আলোকরশ্মি: ট্যান পড়ে ত্বক কালো হয়ে যায় সূর্যের ক্ষতিকারক আলোকরশ্মির কারণে। ক্ষতিকারক UV-rays সংস্পর্শে আসা মাত্র ত্বকে মেলানিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। যা ত্বকে কালচে ভাব আনে। অত্যাধিক সূর্যের সংস্পর্শে এলে UV-ray ত্বকের সুস্বাস্থ্য কেড়ে নেয় এবং ত্বককে ম্লান ও কালচে করে।

আরও পড়ুনঃ   ত্বকে বয়সের ছাপ দূর করতে ৫টি ঘরোয়া পদ্ধতি!

হাইপার পিগমেন্টেশন: ত্বকের মধ্যে থাকে কোষ দ্বারা উৎপন্ন মেলানিন। এই রঞ্জক পদার্থটির পরিমাণের উপর নির্ভর করে ত্বকের রং কেমন হবে। সাদা না শ্যামলা নাকি কালো। ত্বকে মেলানিনের মাত্রা অতিরিক্ত হলে, তখন ত্বক কালো হয়ে যায়। হাইপার পিগমেন্টেশন মাঝে মাঝে ত্বকের একটা নির্দিষ্ট স্থানেও হয় এবং সেটা কালো দাগ বা স্পট তৈরী করে।

ভিটামিনের অভাব: ত্বকের উজ্জ্বলতা ও সুস্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন A, C, E এবং B-কমপ্লেক্স খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি শরীরে এইসব উপাদানের অভাব থাকে, তা হলে ত্বক কালো হয়ে যায়। ম্লান দেখায়।

স্কিন ডিজিজ: চর্মরোগের কারণেও অনেকসময় ত্বক পুড়ে যায় এবং কালো হয়ে যায়। লিচেন সিমপ্লেক্স ক্রনিকাসের মতো সমস্যার কারণে ত্বক মোটা হয়ে যায়। জ্বালা যন্ত্রণা দেখা দেয়। চামড়া কালো হয়ে যায়।

অপুষ্টি: শরীরে যদি সঠিক পুষ্টি না পৌঁছায়, তা হলেও ত্বক কালো হয়ে যেতে পারে।

সুতরাং গায়ের প্রকৃত রং আসলে ঠিক করে দেয় আপনার ত্বকের মেলানিনের মাত্রা, যা আগেই বলেছি অনেক কিছুর ওপরই নির্ভর করে। তাই গায়ের রং উজ্জ্বল বা ফর্সা করার নানা চেষ্টা আসলে অত উপকার বয়ে আনে না। তবে রোদে পোড়া প্রতিরোধ করার জন্য আপনি রোদচশমা, ছাতা ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন। হঠাৎ করে রঙের অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। তা নয়তো গায়ের রং নিয়ে বেশি চিন্তিত হওয়ার আসলে কিছু নেই।

আরও পড়ুনঃ
 কালো ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায়

ঘরোয়া পদ্ধতিতে ত্বক ফর্সা করার ১০টি উপায়-পুরুষ মহিলা সবার জন্য

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

2 × four =