তিসি বীজের উপকারিতা জেনে নিন

0
621
তিসি বীজের উপকারিতা

তিসি বলতে সকলেই তেল হিসেবেই জানে। তবে এই তিসির বীজ শরীরের জন্য কতটা উপকারি? তিসির বীজ খেলে কি হয়? সে সম্পর্কে জেনে নিন- তিসি যার ইংরেজি নাম Inseed/Flaxseed। তিসি বীজ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ভালো একটি খাবার।

তিসিবীজের পুষ্টিগুন:


তিসিবীজের অনেক ধরনের পুষ্টি উপকারিতা রয়েছে। ১০০ গ্রাম তিসি বীজে রয়েছে:

  • ক্যালরি: ৫৩৪ কিলোক্যালরি
  • শর্করা: ২৮.৮৮ গ্রাম 
  • প্রোটিন: ১৮.২৯ গ্রাম,
  • ফ্যাট: ২৭.৩ গ্রাম,
  • খাদ্য আঁশ: ৮ গ্রাম
  • থায়ামিন: ১.৬৪ মিলিগ্রাম
  • রাইবোফ্লাভিন: ০.১৬১ মিলিগ্রাম
  • ম্যাগনেশিয়াম: ৩৯২ মিলিগ্রাম
  • ফোলেট: ৬ মাইক্রোগ্রাম
  • ফসফরাস: ৬৪২ মিলিগ্রাম
  • পটাশিয়াম: ৮১৩ মিলিগ্রাম
  • জিংক: ৪.৩৪ মিলিগ্রাম
  • ম্যাংগানিজ: ০.১৭৪ মিলিগ্রাম   

উপরোক্ত পুষ্টি উপাদানের পরিমান গুলো দেখেই বোঝা যায় যে তিসিবীজ কতটুকু পুষ্টিসম্পন্ন খাবার।এতো পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ খাবার খুব কমই রয়েছে। অনেকেই তিসি খেয়ে থাকেন নানা ভাবে। আবার অনেকের তেমন পছন্দ নয়। কিন্তু এর পুষ্টিগুণের তালিকা থেকে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন এটি আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতোটা উপকারী। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক তিসি বীজের কিছু স্বাস্থ্যকথা

-তিসি আমাদের চুল ও ত্বকের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি শস্য। এটি মুখের বলিরেখা প্রতিরোধ করে, চুল পড়া রোধ করে, ত্বককে মসৃণ ও উজ্জ্বল করে ত্বককে বার্ধক্যের হাত থেকে রক্ষা করে থাকে। এটি ব্রণ ও যে কোন চর্মরোগ প্রতিরোধ করে। এটি মাথায় খুশকি হতে দেয় না এবং মাথার ত্বকের ময়েশ্চারাইজার ঠিক রাখে।

-তিসি আমাদের হতাশা ও দুশ্চিন্তা দূর করে। মেজাজ ফুরফুরে রাখে।

-গ্যাস্ট্রিক ও আলসার দূর করে এবং অ্যাজমা থেকে রক্ষা করে।

-যারা হাই ব্লাডপ্রেসারের রোগী তারা তাদের খাদ্য তালিকায় তিসি রাখতে পারেন। প্রতিদিন ২চামচ তিসির পাউডার এর জন্য যথেষ্ট। এর ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ও এমাইনো এসিড বিপি কমাতে সহায়তা করে।

-তিসি আমাদের হৃৎপিণ্ডের সুরক্ষায় কাজ করে। তিসি বীজে রয়েছে আলফা লিনোলিক এসিড যা হৃৎপিণ্ডের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে। তিসি আমাদের হৃদপিণ্ডকে সবল রাখতে কাজ করে। হার্টে ব্লক বা ইরেগুলার হার্টবিট রোধ করতেও অনেক সাহায্য করে।

আরও পড়ুনঃ   লটকন/বুবি-এর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নিন

-গবেষণায় দেখা গেছে, তিসিতে রয়েছে প্রচুর ফাইটোঅ্যাস্ট্রজেনিক লিগ্নান্স নামক উপাদান যা দেহে ক্যান্সারের কোষ গঠনে বাঁধা প্রদান করে। তিসির মধ্যে থাকা এন্টি অক্সিডেন্ট ব্লাড ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।

-তিসিতে রয়েছে উপকারী ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড যা দেহের ইমিউন সিস্টেম উন্নত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

-প্রতিদিন ১চা চামচ তিসি গুড়ো করে খেয়ে দেখুন। চুল পড়া একেবারে কমে যাবে। এছাড়া তিসির তেল চুলকে করে স্বাস্থ্যউজ্জ্বল।

-প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তিসি রাখুন। এতে করে রক্তের কোলেস্টোরলের মাত্রা কমে যাবে।

-তিসি রক্তে চিনির মাত্রা কমায় যা ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রনে রাখে। গবেষণা থেকে জানা গেছে, তিসি আমাদের শরীরের HDL গুড কোলেস্টোরাল বাড়ায় এবং খারাপ কোলেস্টোরালকে কমায়। অর্থাৎ এটি আমাদের কোলেস্টোরালকে নিয়ন্ত্রণ করে।

-প্রতিদিন ২ গ্লাস পানিতে ৩ চা চামচ তিসি গুঁড়ো মিশিয়ে পান করুন। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে।

-তিসির ফ্যাটি এসিড ক্যারোটিন হতে দেহে ভিটামিন ‘এ’ তৈরিতে সাহায্য করে। এতে করে দেহের ভিটামিন এ এর ঘাটতি পূরণ হয়। শিশুদের ছোটবেলা হতে তিসি খাওয়ার অভ্যাস করলে ভিটামিন এ ঘাটতি জনিত রোগ থেকে মুক্তি পাবে।

-তিসি শরীরের দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। খাদ্য হজমে সহায়তা করে। অতিরিক্ত মেদ কমায়।

-যারা তামাক বা অন্য নেশায় আক্রান্ত থাকে তাদের জন্য তিসি খুবই উপকারী।এটি নেশা জাতীয় দ্রব্য থেকে মুক্তি দিতে হবে। প্রতিদিন খাওয়ার পর অল্প পরিমাণ তিসি চাবালে দ্রুত নেশা থেকে মুক্তি পেতে পারেন একজন রোগী।

-যারা ডায়াবেটিসের রোগী তাদের ইনসুলিন নেয়ার প্রয়োজন নেই যদি এই তিসি সেবন করে থাকেন দৈনিক অন্তত ১৫-২০গ্রাম তিসি। আর যাদের ডায়াবেটিস নেই তারা যদি এটি গ্রহণ করে তবে তাদের ডায়াবেটিস হউয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

-এটি আমাদের শরীরের ক্যলসিয়াম লেভেল বাড়ায়। ফলে হাড় ও শরীরের জয়েন্টগুলো সুস্থ থাকে। ফলে বৃদ্ধ বয়সে হাড্ডিজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।

আরও পড়ুনঃ   লইট্টা শুঁটকিতে কমে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি

-তিসি বীজ মেয়ে এবং ছেলেদের fertility বাড়ায়। এমন কি মেনোপোজের সময় ব্যথা দূর করতেও তিসি অনেক উপকারী।

তিসি খাওয়ার কিছু উপায়:

*তিসি খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে,শুকিয়ে এবং ভেজে নেওয়া ভালো।তারপর এটির পাউডার তৈরি করে গ্রহন করতে হবে।

*প্রতিদিন ঘুমানোর পূর্বে এবং সকালের নাস্তার পূর্বে খাতে হবে।তবে রাতে খেলে এর কার্যকারিতা বেশি হয়ে থাকে।

*প্রতিদিন ১চা চামচ করে খাওয়া উচিত।কিন্তু এর থেকে বেশি খেলে ডায়রিয়া এবং গেস্ট্রিক হতে পারে।

*জটিল কোনো রোগ থাকলে তিসি না খাওয়াই উচিত।

*তিসির ফ্যাটি এসিড ক্যারোটিন হতে দেহে ভিটামিন এ তৈরিতে সহায়তা করে। ফলে শিশুদের ভিটামিন এ এর চাহিদা পূরন হয়।

*তিসি কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন ২ গ্লাস পানিতে ৩ চামচ তিসির পাউডার মিশিয়ে পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা সম্ভব।

তিসি পরিবেশনের কয়েকটি পদ্ধতি:

*তিসিকে গুড়ো করে পাউডার বানিয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষন করা যায়।

*তিসিকে একটি নেয়ামত বলা চলে। । তাই তিসির বীজ প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন।

*তিসি দিয়ে খুব সুস্বাদু ভর্তা বানানো যায়। অল্প তাপে ভাজা রোস্টেট তিসিতে পরিমাণমত পেঁয়াজ,মরিচ,লবন,ধনে পাতা দিয়ে বেটে নিলে ভর্তা তৈরি হয়ে যাবে।

*বাচ্চাদের অতি পছন্দের তিসির নাড়ু তৈরি করা যায় গুড় এবং ভাজা তিসি ব্যবহার করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

17 − 3 =