তালমাখনা কী? তালমাখনার উপকারিতা ও ভেষজ গুণাবলি জেনে নিন

0
3969
তালমাখনার উপকারিতা

তালমাখনা একটি উৎকৃষ্ট ভেষজ ওষুধ। এটি এক ধরনের লতাগুল্ম জাতীয় বর্ষজীবী উদ্ভিদের বীজ। গাছও বেশ শক্ত। গাছ প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার লম্বা হয়, তবে বেশির ভাগ গাছই ৩০ সেন্টিমিটারের মধ্যে থাকে। গাছের কাণ্ড শাখায়িত। কাণ্ডের প্রতিটি গিঁট থেকে পাতা আর কাঁটা বের হয়। কাঁটার রঙ হালকা হলদে বাদামি, পাতার রঙ তামাটে সবুজ। গিঁট থেকে বের হওয়া বাইরের দিকের পাতাগুলো হয় লম্বা আর ভেতরের দিকের পাতাগুলো হয় খাটো। পাতা আর কাঁটা উভয়ই ওপরের দিকে খাড়াভাবে থাকে। ফুলগুলোও ফোটে গিঁট থেকে। ফুল ফোটে ডিসেম্বরে। জলাভূমির ধারে এ গাছ জন্মে থাকে। ফুলের রঙ উজ্জ্বল বেগুনি বা লালচে বেগুনি, মাঝে মধ্যে সাদাটে হয়। তালমাখনা বীজ, পাতা ও শিকড় ঔষধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তালমাখনার পাতা, শিকড় ও বীজ গনোরিয়া, জন্ডিস, বাতব্যথা ও মূত্রাশয়ের প্রদাহ সারাতে ব্যবহার হয়।

তালমাখনা

ইংরেজি নামঃ Marsh Barbel / Hygrophila Spinosa

বৈজ্ঞানিক নামঃ Hygrophyla auriculata (Sch.) Heyne পরিবারঃ Acanthaceae

প্রাপ্তিস্থানঃ বাংলাদেশের বিভিন্ন নিম্নভূমি অঞ্চলে যেখানে বছরের কিছু সময়ের জন্য পানি থাকে সেখানে পাওয়া যায়।

রাসায়নিক উপাদানঃ ভূ-উপরিস্থ অংশে অ্যালকালয়েড, ফাইটোস্টেরল, স্টিগমাস্টেরল, লুপিয়ল, উদ্বায়ী তেল ও হাইড্রোকার্বন; ফুলে এপিজেনিন এবং বিচিতে তেল ও এনজাইম বিদ্যমান।

ব্যবহার্য অংশঃ তালমাখনা বীজ ।

উপকারিতা : এটি দেহ ও মনের প্রফুল্লতা আনে। দেহের পুষ্টি ও বল বাড়ায়। শুক্রবর্ধক, বীর্য গাঢ়কারক, যৌনশক্তিবর্ধক ও স্বপ্নদোষ নিবারক। লিউকোরিয়া, শুক্রমেহ, যৌনদুর্বলতা ও স্নায়ুবিক দুর্বলতায় কার্যকর । ডায়াবেটিসসহ অন্য যে কোনো কারণে যৌনদুর্বলতা এলে তালমাখনা দিয়ে তৈরি ওষুধে দ্রুত তা দূর করা যায়। পাতা ও শাখার জোসান্দা লিভার ও কিডনির প্রতিবন্ধকতা দূর করে, কোষ্ঠ পরিষ্কারক, মূত্র ও ঘর্ম প্রবাহক। পাতার প্রলেপ বাত ও সন্ধি ব্যথা উপশম করে।

বিশেষ কার্যকারিতাঃ হজমকারক, বায়ুনিঃসারক, পাকস্থলীর ব্যথা নিবারক।

তালমাখনা খাওয়ার নিয়ম/রোগ অনুযায়ী ব্যবহার পদ্ধতিঃ

আরও পড়ুনঃ   জেনে নিন পুরুষের একান্ত যৌন দুর্বলতা ও করণীয়

রোগের নামঃ সাধারণ দুর্বলতায় বা দেহের পুষ্টি সাধনে

ব্যবহার পদ্ধতিঃ ৩ গ্রাম তালমাখনা পাউডারের সাথে ১ গ্রাম পরিমাণ শতমূলী পাউডার মিশিয়ে দুধসহ প্রত্যহ সকালে খালিপেটে ও রাত্রে শয়নকালে সেব্য।

রোগের নামঃ শুক্রমেহ ও লিউকোরিয়ায়

ব্যবহার পদ্ধতিঃ ৩ গ্রাম তালমাখনা পাউডারের সাথে ১ গ্রাম পরিমাণ তেঁতুল বীজ পাউডার মিশিয়ে প্রত্যহ ২ বার দুধসহ সেব্য।

রোগের নামঃ যৌন ও স্নায়ুবিক দুর্বলতায়

ব্যবহার পদ্ধতিঃ ৩ গ্রাম তালমাখনা পাউডারের ১ গ্রাম পরিমাণ অশ্বগন্ধা পাউডার ও ৩ চা চামচ মধু মিশিয়ে প্রত্যহ ২ বার সেব্য।

যৌন সমস্যার জন্য আরেকটি সাধারণ ব্যবহার হচ্ছে ৫-৭ গ্রাম তালমাখনা ,সমপরিমাণ তালমিছরি এবং এক গ্লাস দুধ এক সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন একবার পান করুন। এতে আপনার বল বৃদ্ধি, যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধি ,বীর্য গাঢ় ,দ্রুত বীর্যপাত রোধ,বীর্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং যৌন আগ্রহের উন্নতি ইত্যাদি উপকার হবে। তালমাখনার পরিমাণ বাড়াবেন না, বাড়ালে বদ হজম হতে পারে।

নিম্নোক্ত তিনটি পণ্য শীগ্রই বিডি হেলথে পাবেনঃ
বিডি হেলথ অশ্বগন্ধা পাউডার
বিডি হেলথ তেঁতুল বীজ পাউডার
বিডি হেলথ শতমূলী পাউডার

সতর্কতাঃ নির্দিষ্ট মাত্রায় অধিক সেবন করা সমীচীন নয়। এতে পেটে বায়ু হতে পারে।

এর আছে অনেক ঔষধীগুন । এর পাতা শিকড় ও বীজ সবই উপকারী রাসায়নিক উপাদানে ভরপুর।যেমন-এলকালয়েড্‌স, ফাইটোস্টেরোল, ও সুগন্ধের তৈলাক্ত পদার্থ। আর আছে এনজাইম ডাইয়াসটেস ও লিপেস।ফলে এর রস প্রস্রাববর্ধক,মূত্রনালির নানা রকম রোগ্র উপকারী।

এমনকি মূত্রনালির পাথর দূর করতেও বেশ সাহায্য করে থাকে।এ সব ছাড়াও জন্ডিস ও বাতজনিত রোগেও এর বীজের তেল বেশ কার্যকরী। এটা রান্নাতেও ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে ফুচকায়। এটা বাজারে কিনতে পাওয়া যায়।

(উপকারিতার দিক থেকে তালমাখনার বীজ সব থেকে কার্যকরী, একই সাথে মিষ্টি ও তিক্ত স্বাদযুক্ত এর বীজে রয়েছে অধিক পরিমাণে ফাইবার যা হজম বৃদ্ধিতে সহায়ক। এছাড়া লো ফ্যাটযুক্ত বীজ ডায়াবেটিকস রোগের জন্যও ভাল। হার্টের পীড়া, দুর্বলতা, পিত্তথলির পাথর, গ্লডারের সমস্যা, মানসিক অবসাদ, যৌন সমস্যা সমাধানে এটি আশীর্বাদ স্বরূপ। ত্বকে বয়সের ছাপ, মলিনতা, ব্রণের সমস্যা দূর করতেও আপনি রোজ এটি ব্যবহার করতে পারেন।)

আরও পড়ুনঃ   পুরুষত্বের সমস্যা

বিঃদ্রঃ বিডি হেলথ তালমাখনা কিনে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করুন এবং অন্যকে কিনতে উৎসাহিত করুন। আপনার প্রয়োজন হলে কমেন্ট করুন বা আমাদের মেইল করুন। ধন্যবাদ

বিঃদ্রঃ সাধারণভাবে তালমাখনা /তালমাখনা পাউডার ভিজিয়ে শরবত খেতে পারেন। প্রতিদিন একবারে খান বা কয়েক বারে খান ৫-৭ গ্রামের চেয়ে বেশি খাওয়ার দরকার নেই। সাথে ইসবগুলের ভুষি মিক্স করতে পারেন।

বিঃদ্রঃ কুলেখাড়া বা কান্তা কালিকা বা কুলিকারহা বা ক্ষরিক বা গোকুলকাঁটা , দীর্ঘস্থায়ি সম্ভোগে যাঁরা ইচ্ছুক তাঁরা শোধিত আত্মগত (আলকুশী Mucuma prurita) বীজের গুড়ো আধ চামচ ও কুলেখাড়া বীজের গুড়ো আধ চামচ একসঙ্গে গরম দুধে গুলে খাবেন, এটার দ্বারা ঐ উদ্দেশ্যটা সিদ্ধ হবে। তবে এখানে একটা কথা বলা দরকার যে “তালমাখনা’ হলো কুলেখাড়া বীজ-এই যে অনেকের ধারণা আছে সেটা কিন্তু ঠিক নয়; বাজারে যেটা তালমাখনা বলে বিক্রি হয় ওটা পৃথক দ্রব্য, আর বাজারে যেটা কুলেখাড়া বা কোকিলাক্ষ বীজ বলে বিক্রি হয় ওটাও কুলেখাড়া বীজ নয়। আসল কুলেখাড়া বীজের রং অবিকল কোকিলের চোখের রং হবে।


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

sixteen − sixteen =