ইপসম সল্ট কী? ইপসম সল্টের উপকারিতা, ব্যবহার এবং ক্ষতিকর দিক—

0
37
ইপসম সল্টের উপকারিতা
ইপসম সল্টের উপকারিতা

আমাদের দৈনন্দিন জীবনের বেশ কিছু সমস্যা সমাধানের জন্য ইপসম সল্ট একটি অপরিহার্য উপাদান। যাইহোক, এর সঠিক ব্যবহার বা কিছু ক্ষেত্রে এর অস্তিত্ব সবার জানা না থাকায় আমাদের নাগালের মধ্যে থাকা এই উপকারি উপাদানটি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে না। এটি এমন এক উপাদান যা, সাংসারিক ক্ষেত্রে, রূপচর্চায়, বাগান পরিচর্যায় এবং ঘরবাড়ি পরিষ্কার ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যবহার উপযোগী। যখন কোন অনুষ্ঠান থাকে তখন সর্ব প্রথমে আমরা চিন্তা করি কীভাবে নিজেকে আরো সুন্দর করা যায় এবং সেজন্য আমাদের অনেকেই পার্লারে গিয়ে থাকে। কখনো বডি ম্যাসাজ, কখনো বডি স্পা, পেডিকিউর-মেনিকিউর, ফুট স্পা ইত্যাদি বিভিন্ন কাজ অবলম্বন করি। অথচ, আপনি হয়তো জানেন না যে আমরা তাদের জন্য যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করি তার চেয়ে বেশ কম ব্যয়ে এবং অবশ্যই ইপসম লবণ দিয়ে আমরা সেগুলি বাড়িতে তৈরি করতে পারি। কারণ এগুলো বিউটি সেলুনেও ব্যবহার করা হয়। অথবা আপনার বাগানে হঠাৎ পোকামাকড়ের উপস্থিতি হতে পারে এবং উক্ত আপনার গা পোকামাকড় বাগানের ক্ষতি করতে পারে, তাই আপনি কীভাবে পোকামাকড়ের সংখ্যা হ্রাস করবেন তা নিয়ে চিন্তিত হতে পারেন। কিন্তু আপনার দুঃচিন্তার কিছু নেই, কারণ এপসম লবণ দিয়ে এই সমস্যার ও সমাধান করতে পারবেন।

নাকি বাথরুমের কল দিয়ে একনাগাড়ে পানি পড়ার কারণে ক্রমাগত দাগ হয়ে গেছে , নাকি পানিতে আয়রন থাকার কারণে বাথরুমের মেঝে খারাপভাবে বাদামি/খয়েরি দাগ হয়ে গেছে? কিভাবে পরিষ্কার করবেন এই দাগ? সেক্ষেত্রেও এপসম লবণের ব্যবহার করতে পারবেন। আসুন তাহলে আজকের নিবন্ধ থেকে জেনে নেই একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান এপসম লবণ এর গুনাগুন গুলি। আসুন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ এবং অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান এপসম লবণ এর গুনাগুন সম্পর্কে আজকের প্রবন্ধ থেকে জেনে নিই।
আর গুণাগুণের পাশাপাশি যে কোন জিনিসেরই ক্ষতিকর প্রভাব থাকে, তেমনি এপসম লবণের কিছু ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। উক্ত ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কেও আজকের প্রবন্ধের আলোচ্য বিষয়। চলুন শুরু করা যাক ——

এই প্রবন্ধে জানতে পারবেন——-

ইপসম সল্ট  কি?

ইপসম সল্ট কী
ইপসম সল্ট কী

ইপসন লবণ দেখতে সাধারণ লবণের মতো হলেও এটি আমাদের প্রচলিত খাবার লবণ থেকে আলাদা এবং এর অনেক উপকারী গুণ আছে। আসলে এটি হল এক ধরনের খনিজ লবণ যা আমাদের শরীরের জন্য বা আমাদের দৈনন্দিন কাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর গাঠনিক উপাদানের মধ্যে রয়েছে খনিজ ম্যাগনেশিয়াম ও সালফেট, তাই এটি ম্যাগনেশিয়াম সালফেট নামে পরিচিত। এটি দেখতে ক্ষুদ্র ও বর্ণহীন। আমাদের মানব শরীরে ম্যাগনেশিয়াম সালফেটের ব্যাপক চাহিদা আছে, যদিও কয়েক বছর ধরে পৃথিবীতে এই খনিজের পরিমাণ তুলনামূলক হারে কমে যাচ্ছে। 

এই ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ত্বকের মাধ্যমে রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে এবং শরীরে অনেক কাজ করে। এটি আয়ন সমৃদ্ধ উপাদান হওয়ায় অনেক শারীরিক সমস্যায় এটি ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে আমাদের বেশির ভাগই ফিল্টার করা পানি খাই, এক্ষেত্রে জীবাণু মেরে ফেলার পাশাপাশি পানিতে প্রয়োজনীয় ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণও কমে যায়। ফলে শরীরে এর ঘাটতি দেখা যায়। ইপসম লবণ শরীরের ম্যাগনেসিয়ামের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে ()।

ইপসম লবণ কিভাবে শরীরে কাজ করে?

ইপসম লবণ কিভাবে শরীরে কাজ করে
ইপসম লবণ কিভাবে শরীরে কাজ করে

ইপসম সল্ট একটি আয়ন সমৃদ্ধ উপাদান যাতে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট থাকে, যা ত্বকের সংস্পর্শে এলে ত্বকের ছিদ্র দিয়ে রক্ত প্রবাহে পৌঁছে শরীরের অভ্যন্তরে পৌঁছে যায়। অনেক ক্ষেত্রে, Epsom লবণ মাথাব্যথা, ডায়াবেটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য, পায়ে ব্যথা এবং ঘা নিরাময়ে ওষুধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এটি ওষুধ হিসেবেও খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া, এটি সরাসরি ও শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী নেওয়া যেতে পারে। এবার আমরা প্রবন্ধের পরবর্তী অংশে আলোচনা করব কীভাবে আমরা ইপসম লবণ গ্রহণ করতে পারি এবং ইপসম লবণের উপকারিতা কী।

ইপসম সল্টের উপকারিতা

ইপসম সল্টের উপকারিতা
ইপসম সল্টের উপকারিতা

আমরা ইতিমধ্যে ইপসম লবণের বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে জেনেছি। কিন্তু আমরা এখনও তাদের পুরোপুরি বুঝতে পারিনি। আসুন এখন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে ইপসম সল্ট ব্যবহার করে সুস্থ থাকা যায় এবং ইপসম সল্টের উপকারিতা কি কি।

১) স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে এপসম সল্টের ভূমিকা

স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে এপসম সল্ট
স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে এপসম সল্ট

নিবন্ধের শুরুতে, আমরা শিখেছি যে এপসম লবণ ম্যাগনেসিয়ামের একটি চমৎকার উৎস, যা ত্বক দ্বারা সহজেই শোষিত হয়, এইভাবে ত্বকের কোষে ইলেক্ট্রোলাইটিক ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করে। ফলে শরীরের বিভিন্ন পেশী, মস্তিষ্ক ও হরমোনের ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়ে। এই হরমোনের প্রভাবে শরীরকে রোগমুক্ত করা যায় এবং শরীরের বিভিন্ন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অফিসে সারাদিনের কাজ সেরে বাসায় ফিরে আমরা সবাই একটু আরাম চাই, কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে মন চাইলেও শরীরকে চাপমুক্ত রাখা যায় না। সেক্ষেত্রে আমরা ইপসম সল্ট ব্যবহার করতে পারি। এটি শরীর ও মনকে শিথিল করতে সাহায্য করবে।

এটা কিভাবে সাহায্য করে?

গোসলের জন্য গরম পানিতে সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার ইপসম লবণ ব্যবহার করে দেখতে পারেন। দিনের শুরুতে হোক বা দিনের শেষে, গোসল যেন আপনার পরিপূর্ণ থাকে/হয়, যা আপনাকে রাখবে সম্পূর্ণ সুস্থ। সেজন্য সপ্তাহে অন্তত তিন দিন গোসলের গরম পানিতে ইপসম লবণ যোগ করুন এবং দশ থেকে পনের মিনিটের জন্য শরীর বাথটাবে রাখুন, এতে শরীরের কোষগুলো সতেজ হবে এবং আপনাকে মানসিকভাবে সতেজ করে তুলবে।

২) পেশী টান, পায়ে ব্যথা এবং ক্ষত নিরাময়ের জন্য ইপসম লবণের ব্যবহার

পেশী টান, পায়ে ব্যথা এবং ক্ষত নিরাময়ের জন্য ইপসম লবণের ব্যবহার
পেশী টান, পায়ে ব্যথা এবং ক্ষত নিরাময়ের জন্য ইপসম লবণের ব্যবহার

শরীরের অন্যান্য দৈনন্দিন অসুখের মধ্যে রয়েছে পায়ে ব্যথা, হঠাৎ পেশিতে টান পড়া বা শরীরের কোথাও ঘা হওয়া। সেক্ষেত্রে ইপসম সল্টের উপকারিতা বহুগুণ বেশি কার্যকর। মূলত এটি সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এই সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। আমরা ইতিমধ্যে জানি যে ম্যাগনেসিয়াম ত্বকের মাধ্যমে রক্ত ​​প্রবাহে পৌঁছায় এবং কোষগুলিকে পুনরুদ্ধার করে, যা ফলস্বরূপ নতুন কোষ গঠনে সহায়তা করে। তাই এই সমস্যাগুলো নিরাময়ের জন্য পেডিকিউরের মাধ্যমে অবশ্যই ইপসম সল্ট ব্যবহার করুন।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

একটি পাত্রে গরম পানি নিন, প্রতি লিটার পানি হিসেবে 50 গ্রাম ইপসম লবণ যোগ করুন। এবার ইপসম লবণ ভালো করে মিশিয়ে তাতে পা ভিজিয়ে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট রেখে দিন। অনেক সময় ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই যে কোনো ক্ষত বা ক্ষত শুকাতে অনেক সময় লাগে। সেই ক্ষেত্রে, Epsom লবণ ব্যবহার করার সময়, এটি আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কিনা তা দেখতে আপনাকে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে হবে। কারণ ইপসম লবণ যেমন ক্ষত সারিয়ে তোলে, তেমনই শরীরে ডায়াবেটিসের পরিমাণ অতিরিক্ত হলে ডায়াবেটিসও বিপরীত হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উপযুক্ত।

৩) ইনসুলিন উৎপাদন এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এপসম লবণের ব্যবহার

বর্তমানে আমাদের মোট জনসংখ্যার অধিকাংশই আমরা দেখতে পারি ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের। এটি যেন একটি সর্বজনীন রোগে পরিণত হয়েছে, যা ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মূল কারণ যেমন অত্যধিক মানসিক চাপ, শারীরিক দুর্বলতা কিংবা অধিকমাত্রায় মিষ্টিজাতীয় খাবার গ্রহণ। সেক্ষেত্রে শুরু থেকে যথাযথ চিকিৎসা করলে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীরা অনেক সুস্থ থাকে। মূলত ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পারি তাদের প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে ম্যাগনেসিয়াম বেরিয়ে যেতে থাকে, যার ফলে শরীরের কোষগুলি ম্যাগনেসিয়াম সালফেট এর অভাবে যথাযথ ইনসুলিন উৎপাদন করতে পারে না। () সে ক্ষেত্রে শরীরে গ্লুকোজ পরিবহনের মাত্রা কমতে থাকে। যার ফলে গ্লুকোজ রক্তে ইনসুলিনের দ্বারা বিপাক বিহীন অবস্থাতেই থেকে যায়, তার শরীরে যথাযথ কাজ করে না। যার ফলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর অবস্থা আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে এপসম লবণের অনেকগুলি উপকারিতা রয়েছে এটি ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ উপাদান হওয়ায় শরীরে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম এবং সালফেট সরবরাহ করে। তবে এক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগীরা এপসম লবণ ব্যবহার করার আগে অবশ্যই আপনার ডাক্তারের থেকে পরামর্শ গ্রহণ করে নেবেন যে কতটা পরিমাণ এবং কখন এটি গ্রহণ করবেন। কেননা এটি সকলের শরীরে সমপরিমাণ প্রয়োজন নাও হতে পারে ()।

আরও পড়ুনঃ   পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা ও যৌন শক্তি বাড়ায় যেসব খাবার

৪) দুর্দান্ত রেচক হিসেবে এপসম লবণের ব্যবহার

পেট পরিষ্কার করতে অন্যতম একটি জুড়ি মেলা ভার উপাদান হলো এপসম লবণ। দিনের পর দিন পেটের কারণে চিন্তায় রয়েছেন? সঠিকভাবে মল নির্গমন হচ্ছে না? তবে এই উপায়টি আপনার জন্যই। মূলত এপসম লবণ যদি সরাসরি গ্রহণ করা হয় সে ক্ষেত্রে এটি শরীরের পেটের ভিতরের পেশীগুলি কে কাজ করতে সহায়তা করে। যা অন্ত্রে জলের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে এবং হজম ক্ষমতার বৃদ্ধি ঘটায়। যার ফলে শরীর সহজেই বর্জ্যমুক্ত হয়। কোলন শরীরের ভেতরে থাকা বর্জ পদার্থ কে বের করে দিতে সহায়তা করে ()।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

পেটকে সাফসুতরো রাখার জন্য দৈনিক এক গ্লাস জলে ১ চা-চামচ এপসম লবণ গ্রহণ করুন। এটি গরম জলে গ্রহণ করার ফলে শরীরে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হবে, পেট পরিষ্কার থাকবে, পেটে ফাঁপা ভাব কিংবা গ্যাস থাকলে তা নিরাময় হবে।

৫) ছত্রাক নিরাময়ে এবং প্রদাহ কমাতে এপসম লবণের ব্যবহার

যেকোনো ধরনের জীবাণু নিরাময়ে কিংবা ত্বকের প্রদাহ জনিত সমস্যার সমাধানে এপসম লবণ খুব ভালোভাবে কাজ করে। এছাড়াও হাতে যে কোনো রকমের আঁশ ঢুকে গেলে সেগুলো বের করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ থাকে। অনেক সময় কাঠের দরজা কিংবা কাঠের জানলা এসবে আমরা হাত দিলে হাতের মধ্যে আল ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেক্ষেত্রে এপসম লবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। শরীরের মধ্যে থাকা বিভিন্ন সংক্রমণ গুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে এপসম লবণ। এপসম লবণ এর মধ্যে থাকা স্বাস্থ্যকর ম্যাগনেসিয়াম শরীরের যে কোনো রকমের আঘাত, সংক্রমণ, এলার্জির মতন সমস্যাবলীর সমাধান করে থাকে।

কিভাবে সাহায্য করে?

প্রদাহ জনিত কিংবা সংক্রমণজনিত যেকোনো ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমরা এপসম লবণের ব্যবহার করতে পারি। এক্ষেত্রে সপ্তাহে তিন বার গরম জলে এপসম লবণ মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানটি ওই জলে ৩০ মিনিটের জন্য ডুবিয়ে রাখবেন। এক দিনেই তফাৎটা বুঝতে পারবেন যে কিভাবে এটি দ্রুত সমস্যার সমাধান করছে।

৬) ওজন নিয়ন্ত্রণে এপসম লবণ এর ভূমিকা

বর্তমান সময়ে হঠাৎ শরীরের ওজন বৃদ্ধি অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। ঘরে বসে কাজ, যথাযথ হাঁটাচলা না করার ফলে এবং অনিয়মিত খাদ্য গ্রহণের ফলে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলস্বরূপ আমাদের বহু রোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে শরীরের ওজন কমাতেও এপসম লবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। যারা নিয়মিত যেকোনো ধরনের শরীর চর্চা করে থাকে তারা যদি এপসম লবণ গ্রহণ করে সে ক্ষেত্রে এটি শরীরের মধ্যে গিয়ে ফ্যাট কমাতে যেমন সহায়তা করে তাছাড়াও শরীরকে নতুন কোষ গঠনে সহায়তা করে থাকে। তাই এক্ষেত্রে সরাসরি কিংবা ঔষধি হিসেবে এপসম লবণ গ্রহণ করতে পারেন।

কিভাবে ব্যবহার করবেন ?

সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন উষ্ণ গরম জলে এপসম লবণ মিশিয়ে তাতে স্নান করুন কিংবা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ এপসম লবণের ঔষধ গ্রহন করুন। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। কেননা আমাদের প্রত্যেকের শারীরিক গঠন আলাদা, প্রত্যেকের শরীরের প্রয়োজনীয়তা আলাদা, তাই নিজে থেকে সরাসরি ব্যবহার না করে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী গ্রহণ করা উচিত।

৭) খাবার হজমে এপসম লবণ এর ভূমিকা

এপসম লবণের অনেক উপকারিতা সম্পর্কে ইতিমধ্যেই আমরা জেনে গিয়েছি। বলা যায়, আমাদের শরীরচর্চায় কিংবা শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় জাদুর মত কাজ করে এই এপসম লবণ। শরীরের পাশাপাশি পরিপাক ক্রিয়াতেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এটি খাবারকে খুব ভালোভাবে হজম করতে সহায়তা করে। মূলত একটু বেশি ঝাল মসলাদার খাবার খাওয়া হয়ে গেলে সেক্ষেত্রে আমাদের শরীরে অস্বস্তি হতে থাকে কিংবা সঠিকভাবে পরিপাক না হওয়ার ফলে ঠিকমতন মল তৈরি হয় না, যার ফলে পেটে গ্যাস, পেটে ব্যথার মতন সমস্যা দেখা দেয় সে ক্ষেত্রে এটি খাবার হজমে সাহায্য করে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন ?

রাতের বেলা শুতে যাওয়ার আগে উষ্ণ গরম জলে অল্প পরিমাণে এপসম লবণ নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে সেটা খেয়ে নিলে সেটি সারাদিনের খাবার ভাল করে হজম করতে সহায়তা করে। যার ফলে পেটে গ্যাস কিংবা বদহজমের মতন সমস্যা দূর হয়।

৮) মাথাব্যথা ও মাইগ্রেনের সমস্যায় এপসম লবণের উপকারিতা

সাইনাসের কারণে মাথাব্যথা হোক কিংবা অন্য যে কোন কারণে মাথাব্যথা আমাদের মধ্যে অনেকেরই একটি দৈনন্দিন সমস্যা, যা সারাদিনের কাজ কে নষ্ট করে দেয়। শরীরে এক অস্বস্তির সৃষ্টি করে। এক্ষেত্রে সাইনাসের কারণে হওয়া মাথা ব্যথা কিংবা মাইগ্রেনের সমস্যা দূরীকরণে অব্যর্থ ওষুধ হিসেবে কাজ করে এপসম লবণ। আমরা অনেকেই দেখেছি দৈনিক একনাগাড়ে কম্পিউটার বা মোবাইল নিয়ে থাকার ফলে কিংবা প্রেসার বেড়ে গেলে কিংবা কমে গেলে হঠাৎ মাথা ব্যাথার শুরু হয়, সে ক্ষেত্রে এটি ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

যারা সাইনাসের কিংবা মাইগ্রেনের কারণে মাথা ব্যথার কারণে এপসম লবণ ব্যবহার করতে চান তারা যেকোন এসেনশিয়াল তেলের সাথে এপসম লবণ মিশিয়ে নাক দিয়ে ঘ্রাণ নিতে পারেন, তাতে কিছুটা হলেও মাথা ব্যথা থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। কিংবা যদি গরম জলে এপসম লবণ ফেলে দিয়ে ঘ্রাণ নিতে পারেন সেক্ষেত্রে ও মাথা ব্যথার সমস্যা দূর হতে পারে।

৯) ব্যথা নিরাময়ে এপসম লবণের গুরুত্ব

হঠাৎ করে হোঁচট খেয়ে পা মচকে যাওয়া হোক কিংবা সারাদিন একনাগাড়ে হাঁটাহাঁটির ফলে হওয়া পা ব্যথা কিংবা পোকামাকড়ের কামড়ে হওয়া কোনও জায়গায় ব্যথা, যেকোনো ধরনের ব্যথা কমাতে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো এপসম লবণ। এটি ব্যবহারের ফলে খুব সহজেই ব্যথার সমস্যা থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি। এছাড়া পোকামাকড় কামড়ালে যে সমস্যা দেখা দেয় কিংবা ক্ষতের সৃষ্টি হয় সেখান থেকেও আমরা খুব শীঘ্রই মুক্তি পেতে পারি। এছাড়াও মৌমাছি হুল ফোটালে কিংবা বোলতা কামড়ালে সেক্ষেত্রেও এপসম লবণ এর সহায়তায় তার চিকিৎসা করা যেতে পারে। অবশ্যই তার সামরিক চিকিৎসা পরবর্তীতে ব্যাপারটা আরও গুরুতর হলে সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই প্রয়োজন।

কিভাবে ব্যবহার করবেন ?

পায়ে ব্যথার ক্ষেত্রে একটি গামলার মধ্যে উষ্ণ গরম জল নিয়ে তারমধ্যে এপসম লবণ মিশিয়ে ভালো করে গুলে নিতে হবে। তারপর সেখানে পা চুবিয়ে রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে পায়ের টান লাগা কিংবা মচকে যাওয়ার মতন ব্যথা থেকে সহজেই মুক্তি পাওয়া যায়। তাহলে আর ভাবছেন কেন? ব্যথা যদি আপনার সমস্যা হয় এখনই এটি ব্যবহার করুন।

১০) কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণের এপসম লবণ এর ভূমিকা

শরীরের প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের মধ্যে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হল আমাদের পেট। পেট যদি সুস্থ না থাকে সারা শরীর যেন অস্বস্তিতে থাকে। তেমনই পেটকে ও সুস্থ রাখার জন্য কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যাই যথেষ্ট। এক্ষেত্রে এমনও হতে পারে সঠিকভাবে প্রাতঃকৃত্য সম্পূর্ণ না হওয়ার কারণে শরীর অস্বস্তির মধ্য দিয়ে যায়। এমনকি ঠিকমতো ঘুম আসে না, ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া হয়না। তাই এই সমস্যা দূরীকরণে এপসম লবণ আপনাকে সাহায্য করবে এবং সুস্থ করে তুলবে। এপসম লবণ এর মধ্যে থাকা ম্যাগনেসিয়াম এবং আয়রন সমৃদ্ধ উপাদানগুলি পেটের ভেতর গিয়ে কোষগুলিকে উদ্দীপিত করে তোলে, যার ফলে পরিপাকতন্ত্রের ক্রিয়া সচল হয় এবং মল নির্গমন দ্রুততর হয়ে ওঠে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন যদি ঠিকমতো মল নির্গমন না হয় সেক্ষেত্রে গ্যাস হয়, বুকে ব্যথার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা যেতে পারে।

আরও পড়ুনঃ   ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশিতে ভেষজ সমাধান জেনে রাখুন

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

এক গ্লাস উষ্ণ গরম জলে ১ চা চামচ এপসম লবণ মিশিয়ে সেটি পান করুন। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে সহায়তা করবে। মূলত এটি অন্ত্রের ভেতরে গিয়ে হজম এনজাইমগুলো কে সক্রিয় করে তোলে যার ফলে কোলন শরীরের বর্জ্য পদার্থগুলো কে বের করে দিতে সমর্থ হয়।

১১) ত্বকের সমস্যা দূরীকরণে এপসম লবণ এর ভূমিকা

শরীরের পাশাপাশি ত্বকেও সমানভাবে কার্যকরী এপসম লবণ। এটির মধ্যে থাকা উপাদান গুলি ত্বককে এক্সফোলিয়েট করে ত্বকের কোষগুলোকে মেরামত করতে সহায়তা করে। যার ফলে ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। এটি ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি ত্বককে হাইড্রেট করতে সহায়তা করে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ সমুদ্রের জলে চান করলে কিংবা সুইমিং পুলের জলে চান করলে সে ক্ষেত্রে ত্বকের রুক্ষতা এবং প্রদাহজনিত সমস্যাগুলি হ্রাস পায়। যার ফলে ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল হয়। ত্বকের ওপরে জমে থাকা মৃত কোষগুলি সরে যায়। ব্ল্যাকহেডস, ট্যান সানবার্নের মতন সমস্যাগুলো দূর হয় ()।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

স্নান করার এক ঘন্টা আগে অলিভ অয়েল এর সাথে এপসম লবণ মিশিয়ে ভালোভাবে সারা শরীরে মালিশ করলে এক্ষেত্রে শরীরের মৃত কোষগুলি উঠে যাবে এবং শরীরের নতুন কোষ উৎপাদন হবে, যার ফলে ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

১২) চুলকে শক্তিশালী করতে এপসম লবণের ব্যবহার

চুলের যত্নে অর্থাৎ চুলকে পুরোপুরিভাবে মজবুত করতে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো এপসম লবণ। মাথার ত্বকের যে কোনো ধরনের সমস্যায় খুশকি কিংবা শুষ্ক স্ক্যাল্পের মতন সমস্যাগুলিকে কমাতে সহায়তা করে এপসম লবণ। এছাড়াও চুলে অতিরিক্ত তেল অপসারণ হওয়াকেও কম করে এই এপসম লবণ। তবে চুলে যদি রং করা থাকে এটি ব্যবহারের আগে আপনাকে সাবধান হতে হবে, কেননা চুলের রং এর সাথে একটি বিক্রিয়া করতে পারে, যার ফলে চুলের রং খারাপ হয়ে যেতে পারে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

চুলে যে কন্ডিশনার ব্যবহার করেন সেটি এবং এপসম লবণ সমান অনুপাতে একটি বাটিতে নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার এটি চুলের আগা থেকে গোড়া অবধি ভালো করে লাগিয়ে রাখুন এবং তারপর দু মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন। দু মিনিট হয়ে গেলে চুলটা ঠাণ্ডা জলে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন চুল কত সুন্দর এবং উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

এপসম লবণের ব্যবহার

ইতিমধ্যেই আমরা এপসম লবণের উপকারিতা গুলি সম্পর্কে জেনে গিয়েছি। এটি ম্যাগনেসিয়াম এবং সালফেট এর একটি উৎকৃষ্ট উৎস। যা আমাদের দৈনন্দিন কাজে এবং শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে ব্যবহার করা যায়। এবার জেনে নিন এটি কিভাবে ব্যবহার করবেন? কখন ব্যবহার করবেন? কেননা একটি ভালো জিনিস সম্পর্কে জানলে তার ব্যবহারটা জানা আবশ্যক। এক্ষেত্রে মাথা ব্যথা, পায়ে ব্যথা, যেকোনো ধরনের ঘা এর ক্ষত সারাতে, ত্বক পরিচর্যায়, চুল পরিচর্যা কিংবা শারীরবৃত্তীয় যে কোন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে কিভাবে এপসম লবণ ব্যবহার করবো তা আমরা খানিকটা জেনে নিয়েছি। তবে এটি সরাসরি আর কি কি ভাবে ব্যবহার করতে পারবেন আসুন তা জেনে নিন।

যদি পায়ের সমস্যা হয় সে ক্ষেত্রে এক কাপ লবণ এক গামলা গরম জলে মিশিয়ে পা ভিজিয়ে রাখুন ১০ থেকে ১৫ মিনিট। এতে পায়ের পেশি গুলোতে রক্তসঞ্চালন হবে। যার ফলে ব্যথা কমবে।

এছাড়াও শরীর চনমনে রাখতে গরম জলের ব্যবহার করতে পারেন। বাথটবে গরম জল দিয়ে তার মধ্যে দু’কাপ এপসম লবণ দিয়ে দিন। এতে শরীর ভালো লাগবে। এছাড়াও যদি সম্ভব হয় এর মধ্যে আপনার দৈনন্দিন ব্যবহারকারী বডি ওয়াশ দিয়ে দিতে পারেন। এক্ষেত্রে গরম জল আপনার শরীরে সহ্য হয় এরকম তাপমাত্রা নিতে হবে এবং তার মধ্যে বডি ওয়াশ এবং এপসম লবণ কে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর শরীরটাকে ১০ মিনিট তার মধ্যে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এর মধ্যে আপনি কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল যোগ করতে পারেন। এতে শরীরের ময়েশ্চারাইজিং এর কাজটা হয়ে যাবে।

পায়ের স্পা এর ক্ষেত্রে যদি মনে করেন পার্লার যেতে ইচ্ছা করছে না, সে ক্ষেত্রে ঘরে বসেই পেডিকিউর করে নিতে পারেন। আপনার হাতের কাছে থাকা একটি সহজলভ্য উপাদান দিয়ে। এক্ষেত্রে খালি প্রয়োজন, এক কাপ ইপসম লবণ একটি পেডিকিউর করার জন্য গামলা এবং একটি পিউমিস স্টোন। এক গামলা উষ্ণ গরম জলে এক কাপ এপসম লবণ দিন। এবার এটি ভাল করে মিশিয়ে নিন। তারপর আপনার পা দুটি কুড়ি মিনিটের জন্য তার মধ্যে ভিজিয়ে রাখুন। কুড়ি মিনিট হয়ে গেলে পিউমিক স্টোন দিয়ে ভালো করে ঘষে নিয়ে ত্বকের মৃত কোষ গুলো তুলে দিন। এতে পা সুস্থ থাকবে এবং পায়ের ত্বক উজ্জ্বল হয়ে উঠবে () ।

জাদুকরী উপাদান হিসেবেও এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মূলত ইপসম লবন থেকে পাওয়া ম্যাগনেসিয়াম আমাদের শরীরের ত্বককে পরিস্রুত করতে সহায়তা করে। এটি আপনি বাড়িতে স্পা হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। চুল, ত্বক, পা সব কিছুর ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়।

এপসম লবণের অন্যান্য ব্যবহার

ইতিমধ্যেই আমাদের ত্বকের যত্নে, শরীরচর্চায় দৈনন্দিন কাজকর্মে কি কি ভাবে আমরা এপসম লবণ ব্যবহার করব তা জেনে গেছি। এবার এমন কিছু ব্যবহার জেনে নিন এপসম লবণ এর যেগুলো আপনারা সহজেই করতে পারবেন।

১) কৃষিকাজ – মূলত কৃষিকাজে এপসম লবণের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটি ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সমৃদ্ধ হওয়ায় জমির মাটিকে উর্বর করে তুলতে এবং প্রচুর ফলনে সহায়তা করে। যার ফলে কৃষি জমিতে যথাযথ পরিমাণে এপসম লবণ ছড়িয়ে দিলে সেক্ষেত্রে জমির ফলন বৃদ্ধি পেতে পারে। মূলত উদ্ভিদের উর্বরতা বৃদ্ধি করতে এপসম লবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে থাকে। সে ক্ষেত্রে আপনি যদি ভাবেন আপনার জমিকে আরও উর্বর করে তুলবেন এটির ব্যবহার করতেই পারেন।

২) ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার – হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন, ওয়াশিং মেশিন পরিষ্কার করতেও এপসম লবণ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মূলত ওয়াশিং মেশিনের ভিতরে জমে থাকা ময়লা দূর করতে এবং মেশিন এর ভেতরের গন্ধ কমাতে এপসম লবণের ব্যবহার করা যেতে পারে। কিংবা ওয়াশিং মেশিনের ভিতরে কোথাও যদি ময়লা আটকে থাকে সে ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে ওয়াশিং মেশিন ভালো করে গরম জল দিয়ে ভরে নিতে হবে এবং তারপরে তার মধ্যে এপসম লবণ দিয়ে এবং ডিটারজেন্ট পাউডার দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে দিতে হবে। এতে মেশিনের প্রত্যেকটি কোনা ভালো মতন পরিষ্কার হয়ে যাবে।

৩) বাগানের কীটপতঙ্গ দূরীকরণে – আপনার সাধের বাগানে হঠাৎ করে পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে? যা আপনার গাছগুলি কে নষ্ট করে দিচ্ছে। তাহলে এটি নিয়ে আপনাকে অত বেশী উদাস হওয়ার দরকার নেই। আপনার কাছে থাকা এপসম লবণ এর সমাধান করে দেবে। বাগানের আশেপাশে কিংবা টবের ধারের দিয়ে অল্প করে এপসম লবণ ছড়িয়ে দিন। এতে কীটপতঙ্গের দৌরাত্ম্য কমবে এবং গাছের মাটি উর্বর হবে।

৪)বাথরুম পরিষ্কার করতে বাথরুমে জলের দাগ কিংবা টাইলসে দাগ, এসব দেখে দেখে ক্লান্ত? তবে আর অপেক্ষা না করে এখনই এপসম লবণ এবং কাপড় কাচার ডিটারজেন্ট সমপরিমাণে মিশিয়ে বাথরুমের মেঝেতে এবং টাইলসের উপর ভালো করে ছিটিয়ে দিন। তারপর দশ পনের মিনিট এটাকে এভাবেই রেখে দিন তারপর যেকোন শক্ত কিছু দিয়ে ভালো করে স্ক্রাব করে নিন। দেখবেন আপনার বাথরুমটা একদম নতুনের মতই ঝাঁ চকচকে হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুনঃ   আপনার কি চুল পেকে যাচ্ছে? সাদা চুলের যম আলুর খোসা!

৫) মাটির পুষ্টি উৎপাদনে – ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি যে কোনও মাটিকে উর্বর করে তুলতে সাহায্য করে। এপসম লবণ কৃষিকার্যে এবং বাগান তৈরিতে খুব ভালোমতো ব্যাবহার করা যেতে পারে। যার ফলে আপনার গাছ ভালো মতন বেড়ে উঠবে।

৬) জুতার গন্ধ দূরীকরণে – গরমকাল পড়লেই পায়ে ঘামের গন্ধ হবেই। অফিসে স্কুলে পায়ে জুতো তো পরতেই হবে আর অবশ্যই তা বুট জুতো। কিন্তু জুতো তো পড়ে নিলেন, গন্ধের লজ্জায় লোকের সামনে জুতো খোলা দায় হয়ে ওঠে। তবে এই সমস্যা থেকেও আপনি মুক্তি পাবেন এপসম লবণ এর সহায়তায়। বাইরে থেকে এসে রোজ উষ্ণ গরম জলে এপসম লবণ মিশিয়ে পা ভিজিয়ে রাখুন এর ফলে দেখবেন পা খুব বেশি ঘামবে না এবং আপনার জুতো’তেও গন্ধ হবে না।

৭) বাতের ব্যথা নিরাময়ে – ইতিমধ্যেই আমরা পড়েছি কিভাবে বিভিন্ন ধরনের ব্যথা নিরাময়ে এপসম লবণ আমাদের সহায়তা করে। তেমনি বাত জনিত কারণে যে সমস্ত ব্যথা হয় সেগুলি কমাতেও এপসম লবণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে এপসম লবণ উষ্ণ গরম জলে মিশিয়ে চান করলে বাতের ব্যাথার মত সমস্যাগুলি থেকে সমাধান পাবেন।

কোথা থেকে এপসম লবণ কেনা যায়?

ইতিমধ্যেই আপনারা এপসম লবণের উপকারিতা গুলি সম্পর্কে জেনে নিয়েছেন। এমন একটি উপাদান যদি বাড়িতে থাকে সেক্ষেত্রে অনেক কিছুর ক্ষেত্রেই এইটা আমরা ব্যবহার করতে পারি। যার ফলস্বরূপ প্রতিকার মিলবে। বাড়িতে শরীরচর্চা থেকে শুরু করে বাগান পরিষ্কার করা কিংবা ঘরবাড়ি রান্নাঘর ঝাঁ-চকচকে রাখা সবকিছুতেই এপসম লবণ সহজেই ব্যবহার করা যায়। এমনকি এর ব্যবহারবিধি গুলো জেনে নিয়েছেন। যা ব্যবহার করা একেবারেই সহজ এবং ইতিমধ্যে আপনি জেনে গিয়েছেন এটি কোন কোন ক্ষেত্রে কিভাবে ব্যবহার করতে হবে। তবে আর অপেক্ষা কিসের এখনই বাড়িতে নিয়ে আসুন এমন একটি দ্রব্য যা আপনাকে সর্বৈব সাহায্য করবে। এটি কেনার জন্য আপনি আপনার এলাকার যে কোন কসমেটিকের দোকানে খোঁজ করতে পারেন অথবা অনলাইনে যে ধরনের পণ্য বিক্রয়কারি সাইট গুলো রয়েছে সেখানে দেখতে পারেন। সহজেই সেখানে এপসম লবণ পাওয়া যাবে এবং দামও আপনার সাধ্যের মধ্যেই রয়েছে।

এপসম লবণের ক্ষতিকর দিকগুলি কি কি ?

প্রত্যেকটা জিনিসেরই যেমন উপকারী কিছু দিক থাকে, তেমনি কিছু না কিছু ক্ষতিকর প্রভাব থাকে অর্থাৎ আমরা জানি যে কোনো জিনিসই খুব বেশি হারে ব্যবহার করতে থাকলে তার ক্ষতিকর প্রভাব পরে। তেমনি এপসম লবণের ও ক্ষতিকর কিংবা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। অবশ্যই তালিকাটা খুব একটা বেশি নয়। জেনে নিন কি কি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এপসম লবণ থেকে হতে পারে।

  • পায়ের ক্ষতের সৃষ্টি করতে পারে

যে সমস্ত ডায়াবেটিসের রোগীরা রয়েছেন তাদের যদি পায়ে যে কোন ধরনের ঘা কিংবা কাটাছেঁড়ার সমস্যা হয় সেক্ষেত্রে এপসম লবণের জলে পা চুবিয়ে রাখলে সেখানকার ত্বককে এটি আরো শুষ্ক করে তোলে এবং যার ফলে ত্বকে এক ধরনের জ্বালা ভাব এর সৃষ্টি হয়। এমনকি এটি ক্ষত কে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা এপসম লবণ যেকোনো জায়গায় ব্যবহার করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নেবেন।

  • ডায়েরিয়া হতে পারে

আমরা জানি এপসম লবণ ম্যাগনেসিয়াম এবং সালফেট এর একটি উৎকৃষ্ট উৎস এবং যা আমাদের শরীরের রেচন ক্রিয়া কে প্রভাবিত করে। যে কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের মত সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য আমরা এপসম লবণ ব্যবহার করে থাকি। এক্ষেত্রে ডোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে অত্যধিক এপসম লবণ গ্রহণ করার কারণে ডায়েরিয়া দেখা দিতে পারে। কেননা এটি রেচন ক্রিয়া কে প্রভাবিত করছে। যার ফলে অতিরিক্ত পরিমাণ গ্রহণের ফলে শরীরে ডায়েরিয়ার সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে শরীরে জলের পরিমাণ কমে যেতে পারে। তাই যে কোনো জিনিসই অল্প পরিমাণে প্রথমে ব্যবহার করা উচিত। এটিও তার বিকল্প নয়। এটিকে ভালোভাবে বুঝে শুনে ব্যবহার করুন।

ইতিমধ্যেই আমরা আজকের নিবন্ধ থেকে এপসম লবণ এর বিভিন্ন কার্যকরী গুনাগুন, তার উপকারিতা, অপকারিতা এবং এটি কিভাবে আমাদের সহায়তা করে তার পদ্ধতি গুলো জেনে নিয়েছি। তবে আর এবার অপেক্ষা কিসের? আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী আজ বাড়িতে নিয়ে আসুন এপসন লবণ। এটি উদ্ভিদ প্রাণী উভয়ের কাছেই একটি কার্যকরী উপাদান। মূলত এটির ব্যবহার শুরু হয়েছিল প্রাণীদের ক্ষত নিরাময়ে ব্যবহার করেই। পরবর্তী সময়ে এর গুনাগুন এত থাকায় দীর্ঘদিন ধরে মানুষের চিকিৎসা ব্যবস্থাতেও এটি ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এ কারণেই মানুষ এবার এপসম লবণ কেনার তাগিদ অনুভব করছেন।

প্রায়শই জিজ্ঞাস্য প্রশ্নাবলী :

আর্থারাইটিস বা বাত নিরাময়ে কি এপসম লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে?

উঃ হ্যাঁ, আর্থারাইটিস কিংবা বাতের মতন সমস্যাগুলির ক্ষেত্রে এপসম লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি যেকোনো ব্যথা জায়গাতেই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ কমিয়ে ক্ষত সারিয়ে তোলে। এর মধ্যে থাকা ম্যাগনেসিয়াম শরীরের কোষগুলোকে ত্বরান্বিত করে। যার ফলে শরীরে প্রদাহ গুলির যথাযথ চিকিৎসা সম্ভব হয়।

এপসম লবণের পরিবর্ত হিসেবে কি ব্যবহার করা যেতে পারে?

উঃ এপসম লবণ মূলত এক ধরনের খনিজ লবণ। এর পরিবর্তে হিসেবে সামুদ্রিক লবণ ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও ওটমিল, অ্যাপেল সিডার ভিনিগার বা যেকোনো এসেনশিয়াল অয়েল স্পা করার ক্ষেত্রে কিংবা চুল পরিচর্যা ব্যবহার করা যেতে পারে এটির পরিবর্ত হিসেবে।

এপসম লবণ কি খাওয়া যেতে পারে?

উঃ খুব বেশি প্রয়োজন না হলে এপসম লবণ মৌখিকভাবে গ্রহণ করা উচিত নয়। কেননা এটি রক্তে ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণকে হঠাৎ বাড়িয়ে দিতে পারে। যার ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে এপসম লবণ যখন গ্রহণ করবেন সে ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে জল পান করতে হবে এবং অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ডোজ গ্রহণ করবেন।

গর্ভবতী মহিলাদের এপসম লবণ ব্যবহার করা কি ঠিক হবে

উঃ হ্যাঁ গর্ভবতী মহিলারা এটি ব্যবহার করতে পারেন বাথটাবে জল উষ্ণ গরম করে তার মধ্যে মিশিয়ে 10 মিনিট তার মধ্যে শুয়ে থেকে উষ্ণ গরম জল দিয়ে গা ধুয়ে নিতে হবে তবে মৌখিকভাবে এটি গ্রহণ করা যাবে না

এপসম লবণের ভাপে কি অনেকক্ষণ ধরে শুয়ে থাকা যায়?

উঃ এপসম লবণে মোটামুটি পনেরো মিনিট অবধি শুয়ে থাকা যায়। বিশেষত শরীরের যেকোনো ধরনের ব্যথা বেদনা কমানোর জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। সেক্ষেত্রে বাথটাবে এপসম লবণ উষ্ণ গরম জলে মিশিয়ে গরম ভাব নিতে পারেন।

ইপসম লবণ পান করা যায় কি?

উ: ইপসম লবণ একটি নিরাপদ উপাদান। কিন্তু এতে ম্যাগনেসিয়ামের আধিক্য থাকায় এটি অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে ডায়রিয়া, পেটে ব্যথার মতো সমস্যা হতে পারে। তাই এটি খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সেবন করুন। নইলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

আরো পড়ুনঃ

এপসম সল্ট কি? এপসম সল্টের ১৯টি বিস্ময়কর উপকারিতা জেনে নিন

ইপসম সল্ট: স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য চর্চায় জাদুকরী প্রোডাক্ট ইপসম সল্ট

 Sources

StyleCraze and the following:-

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

four × 3 =